কেঁচো সার থেকে শিক্ষক আমান উল্লাহর মাসে আয় ৫০ হাজার টাকা

জৈব সার। সংগৃহীত ছবি
বাড়িতে রয়েছে ১২-১৩টি গরু। সেগুলোর গোবর দিয়েই তৈরি করছেন জৈব সার। কোনো বাড়তি উপাদান ছাড়াই উৎপাদিত সেই সার বিক্রি করে মাসে আয় হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মধুগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক জি এম আমান উল্লাহর এমন উদ্যোগ এখন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে। তার বাড়িতে গড়ে ওঠা ‘গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্ম’ থেকে প্রতি মাসে বিক্রি হচ্ছে প্রায় পাঁচ টন কেঁচো সার।
একসময় চাকরি, ব্যবসা ও কৃষি— বিভিন্ন ক্ষেত্রে চেষ্টা করেছেন আমান উল্লাহ। তবে শেষ পর্যন্ত গরুর গোবর থেকে জৈব সার তৈরির উদ্যোগই তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। শুরুটা ছিল একেবারেই ছোট পরিসরে। হাট থেকে মাটির তৈরি বড় চাড়ি কিনে এবং ৩ হাজার টাকা দিয়ে এক কেজি কেঁচো সংগ্রহ করে উৎপাদন শুরু করেন। কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন নিজের গরুর গোবর। প্রথম বছর নিজের বাড়ির সবজি ও অন্যান্য গাছে সেই সার প্রয়োগ করে
চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০১৪ সালে উৎপাদনের পরিসর বাড়ান আমান উল্লাহ। বড় ঘর তৈরি করে সেখানে ১০ ফুট লম্বা, ৩ ফুট চওড়া ও ১ ফুট উঁচু ১৮টি চেম্বার এবং ২২টি চাড়ি স্থাপন করেন। শুরু হয় বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন ও বিক্রি। পরে গ্রিন অ্যাগ্রো ফার্ম নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
আমান উল্লাহ জানালেন, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ টন সার বিক্রি হচ্ছে। শ্রমিক ও বিদ্যুৎ খরচ বাদ দিয়ে তার মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
তার ভাষ্য, মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নিজের বাড়িতে উৎপাদিত গোবর কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন জৈব সার তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বর্জ্যেরও কার্যকর ব্যবহার হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমূল হুদার মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা বেশি হওয়ায় জৈব সার বেশ কার্যকর।



