লালমনিরহাট
এলপিজির দাম বৃদ্ধি, সংকটে বিক্রি বন্ধ!

ছবি: আগামীর সময়
এলপিজির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে লালমনিরহাটে গ্যাস সংকটে বিক্রি বন্ধ হয়েছে এলপিজি ফিলিং স্টেশন। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষের কপালে দুঃচিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও এ মূল্য মানা হচ্ছে না লালমনিরহাটের খুচরা বাজারে।
গত দুই মাসে এলপিজির সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৫-৬ শত টাকা। মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে ক্রেতাদের। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস সংকটের পরে বিক্রি বন্ধ রয়েছে এলপিজি ফিলিং স্টেশনে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকসহ সংশ্লিষ্টরা।
ক্রেতারা অভিযোগ করেন, সরকার দুই মাসের ব্যবধানে এলপিজি সিলিন্ডার প্রতি ৫-৬ শত টাকা দাম বাড়িয়েছে। বর্তমান সরকারিভাবে খুচরা মূল্য ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও ১৯০০ টাকার নিচে মিলছে না গ্যাস। কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সংকট তৈরি হয়েছে খুচরা বাজারগুলোয়। বেশি দাম দিলে মিলছে সিলিন্ডার। নয়তো সিলিন্ডার নেই অজুহাতে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এলপিজি ফিলিং স্টেশনে খোঁজ নিলে কর্তব্যরতরা জানালেন, সরবরাহ নেই। দাম বাড়লেও সরবরাহ না থাকায় গ্যাস বিক্রিও বন্ধ রয়েছে। যানবাহনগুলো গ্যাস নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে। যার কারণে পেট্রল পাম্পগুলোয় ভিড় বাড়ছে। গ্যাস না পেয়ে বাড়তি দামে পেট্রল তুলে যানবাহন চলাচল করলেও ভাড়া নিয়ে চালকদের সঙ্গে বিতর্ক লাগছে যাত্রীদের।
লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে এলপিজির পরিবেশকরা জানালেন, সরবরাহ না থাকায় সিলিন্ডার দিতে পারছেন না তারা। ফলে খুচরা বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার সংকট দেখা দিতে পারে। দাম কমা-বাড়া করলে সরবরাহে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। যা সাময়িক। সরবরাহ হলে খুচরা বাজারে সংকট কেটে যাবে।
সিলিন্ডার ক্রেতা নুরুল ফেরদৌস জানালেন, গত মাসেও সিলিন্ডার ১৪৫০ টাকায় পাওয়া গেছে। এখন ২ হাজার টাকা লাগতেছে। তারপরও সব দোকানে মিলছে না। অতিরিক্ত দাম না দিলে গ্যাস মেলানো ভার।
সিএনজিচালক আজিজুল ইসলাম বলেছেন, সরকারি মূল্যেও মিলছে না গ্যাস। ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই। অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার কিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে গ্যাস কেনায় ভাড়া বেড়েছে। যা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডাও লাগছে।
কাকিনা এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিক তাহির তাহু বলেছেন, এলপিজি সরবরাহ না থাকায় আমাদের স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। যানবাহনের চালকদের চাপে যেটুকু ছিল তা বিক্রি শেষ হয়েছে। এখন গ্যাস শূন্য। তাই বন্ধ রাখতে হয়েছে। সরবরাহ শুরু হলে বিক্রি শুরু হবে।




