মাদারীপুরে বাড়ছে পদ্মার পানি, প্লাবিত চরাঞ্চল

পদ্মা নদীর তীরে নৌকায় এক শিশুকে গোসল করাচ্ছেন এক নারী ও নৌকার হাল ধরে আছে এক শিশু। ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। পানিতে তলিয়ে গেছে তিল, আউশ ধান, পাট, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। একই সঙ্গে ডুবে গেছে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে চাষ করা ঘাসের জমি। এতে কৃষকদের পাশাপাশি চরম সংকটে পড়েছেন চরাঞ্চলের খামারিরাও।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরজানাজাত, বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, কাঁঠালবাড়ি ও সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন চর। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের মতে, প্রতিদিনই বাড়ছে পানি। এতে ফসলি জমির পাশাপাশি বসতভিটা, কাঁচা সড়কসহ হুমকির মুখে পড়েছে জনজীবনও।
কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইদ আহমেদ সৈয়দ বেপারী বলেছেন, ‘পদ্মার আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অধিকাংশ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। পানির চাপে ধসে যাচ্ছে বিভিন্ন কাঁচা সড়কও। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের কৃষকরাই।’
মাদবরেরচরের বাসিন্দা সোয়েব আহমেদ বলেছেন, ‘পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর মাঝের অনেক চর তলিয়ে গেছে। নিরাপত্তার জন্য চর ছেড়ে লোকালয়ে চলে এসেছেন অধিকাংশ মানুষ। সরিয়ে আনা হয়েছে গবাদিপশুও। তবে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা গো-খাদ্যের সংকট।’
চরজানাজাত ইউনিয়নের বাসিন্দা সাহা আলম মিয়া জানান, তাদের ইউনিয়নে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। তাই নৌকায় করে মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বা ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গবাদিপশুর মালিকরা।
পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেত থেকে শাকসবজি ও ফলমূল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। চরাঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য ছোট শ্যালো নৌকায় করে নদীর তীরে এনে পাঠানো হচ্ছে বাজারে। তবে এরই মধ্যে অনেক চিনাবাদাম, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে পানির নিচে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার তীব্র স্রোতে পদ্মার বিভিন্ন চরে শুরু হয়েছে নদীভাঙনও। এতে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে অনেক পরিবার। পাশাপাশি উত্তাল ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কারণে ছোট নৌকা ও ট্রলারে চলাচলও হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গবাদিপশু হারানোর ঘটনা ঘটছে।
পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানীয় জল, শুকনো খাবার ও গবাদিপশুর খাদ্যের সংকট দিন দিন বাড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রমও। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না অনেক শিক্ষার্থী।
এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির প্রভাবে বেড়েছে মাদারীপুরের অন্যান্য নদ-নদীর পানিও। আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বাড়ায় প্লাবিত হয়েছে শিবচরের চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি, মাদবরেরচর, বন্দরখোলা ও সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেছেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে শিবচরের চরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’





