গ্যাসের চাপ কম থাকায় যমুনা সার কারখানার উৎপাদন ব্যাহত

যমুনা সার কারখানা
গ্যাস স্বল্পতায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর আবার সংযোগ পেয়েও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করতে পারেনি যমুনা সার কারখানা।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত কারখানাটিতে স্টার্ট-আপ কার্যক্রম চললেও প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। তবে সেই গ্যাস থেকে এখনো ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ গ্যাসের চাপ কম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে কারখানাটির স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাওয়া গেলে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকায় নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন জানান, ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য কারখানাটিতে ৪৬ এমএমসিএফ গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। তবে ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ চাপ পাওয়া গেলেও ইউরিয়া উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড মাত্র ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ করছে। এই চাপের গ্যাস ব্যবহার করা গেলেও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তা প্রয়োজনীয় কাজে আসছে না।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘদিনের উৎপাদন ঘাটতি কমিয়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাবে।
১৯৯০ সালে যমুনা সার কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১৯৯১ সালে কারখানাটিতে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। পাশাপাশি প্রতিদিন ১ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতাও রয়েছে।
যমুনা সার কারখানায় উৎপাদিত ইউরিয়া জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১ জেলায় সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ থাকায় সার সরবরাহের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়েছে কারখানাকেন্দ্রিক পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
সাত মাস পর গ্যাস সংযোগ পাওয়ায় কারখানাটিতে উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।
কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত করা হলে দ্রুত ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে। এতে একদিকে সার সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, অন্যদিকে বর্তমানে ব্যয় হওয়া বিপুল পরিমাণ গ্যাসও উৎপাদন কাজে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।



