স্থবির একাডেমিতে আসছে গতি

দিনাজপুর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমির সংরক্ষণ ও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এর আগে গত ১৯ জুন ‘সংস্কৃতির আঙিনা যেন ভূতের বাড়ি’ শিরোনামে আগামীর সময়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে সাংস্কৃতিক একাডেমিটির বেহাল দৃশ্য তুলে ধরা হয়। তবে সংবাদ প্রকাশের পর একাডেমির ঝোপঝাড় পরিষ্কারসহ দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা গেছে। গতকাল রবিবার সদর উপজেলার মীর্জাপুর সুইহারী সরকারি কলেজ মোড়ের এই সাংস্কৃতিক একাডেমিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো একাডেমির ঝোপঝাড় করা হয়েছে পরিষ্কার। এ ছাড়া অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে অস্থায়ী ভিত্তিতে করা হয়েছে লোক নিয়োগ।
সার্বিক বিষয়ে কথা হয় সাংস্কৃতিক একাডেমির পরিচালক (চুক্তিভিত্তিক) মো. মামুনের সঙ্গে। তিনি আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘একাডেমি পরিষ্কারের কাজ চলছে। খুব দ্রুত নির্বাহী পরিষদের সভা আহ্বান করা হবে। এ ছাড়া আগস্টে প্রথম ধাপে বরাদ্দ মিললেই কাজ শুরু হবে পুরোদমে।’
উত্তরের জেলা দিনাজপুরে বসবাস সাঁওতাল, ওঁরাও, রাজবংশীসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে এসব সম্প্রদায়ের মানুষের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। ২০২২ সালে হওয়া জনশুমারি অনুযায়ী জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা ৫২ হাজার ৯৩৯ জন। তবে খাতা-কলমের হিসাব পেরিয়ে এ সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ।
বৃহৎ এই গোষ্ঠীর মানুষের ইতিহাস-ঐতিহ্য লালন এবং সংস্কৃতি ও ভাষাচর্চায় ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘দিনাজপুর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি’। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত একাডেমিটি আলোর মুখ দেখেনি উদ্বোধনের আট বছরেও। দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো থাকলেও নেই কোনো কার্যক্রম। অস্থায়ী ভিত্তিতে দুজন কর্মচারী থাকলেও সেখানে গিয়ে তাদের দেখা মেলেনি।
যেখানে সাংস্কৃতিককর্মীদের পদচারণে মুখর থাকার কথা, সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। প্রতিষ্ঠানের এমন দশায় ক্ষোভ জানান আদিবাসী সংগঠনের নেতারা।




