মির্জা ফখরুল
আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, বহু লড়াইয়েও আসেনি পরিবর্তন

ছবি: আগামীর সময়
নওগাঁর পতিসরে আজ রবীন্দ্র-আবহে দিন কাটালেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কাচারি বাড়িতে সকালে বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর আয়োজন উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানেই অংশ নেন জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবার সাহিত্যপ্রীতি ও রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টিগুলো স্মরণ করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
‘আমার বাবা দাপুটে রাজনীতিক ছিলেন এবং তিনি মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে বের হতেন। ফিরে এসে তিনি রবীন্দ্রনাথের শা-জাহান কবিতা আবৃত্তি করতেন। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায়ই মনে হয়, রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না।’
এ সময় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি।
‘আমরা রাজনীতি করি, সারা জীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছি। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে। পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।’
‘আমাদের দেশে একটা হতাশাবাদী গোষ্ঠী আছে। তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়’- মন্তব্য মির্জা ফখরুলের।
‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমি শুধু বলতে চাই, আমাদের যে মূল জায়গাটা- ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ। আমাদের যে স্বকীয়তা, আমাদের যে স্বতন্ত্র পরিচয়- যে আমরা বাংলাদেশি, এই কথাটা আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। ৯ মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি লড়াই করেই’- যোগ করেন তিনি।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আসা পরিবর্তনে ‘গোলযোগ’ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে শঙ্কা জানালেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।
‘জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল, আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে। নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিল, তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমরা আজকে এই অবস্থায় এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। আমরা কেউ চাই না, দেশে আর কোনো গোলযোগ হোক।’
এ পর্যায়ে সাহিত্যের বাইরেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদানের কথা তুললেন বিএনপি মহাসচিব।
‘রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন। এটি তার জীবনের সঙ্গে, কাজের সঙ্গে, কবিতার সঙ্গে বাইরের ব্যাপার ছিল। আমি কোনো তাত্ত্বিক নই, পণ্ডিতও নই। সাহিত্যের ওপর বিশেষ কোনো পাণ্ডিত্য নাই। আমি সাহিত্য ভালোবাসি, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ভালোবাসি, নজরুলের সাহিত্য ভালোবাসি। সব ধরনের সাহিত্যই আমি ভালোবাসি। কিন্তু আমি নিজে কোনো কিছু লিখতে পারি না।’
‘যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা শুনে, কবিতা লিখে অথবা যে মানুষটি গান শুনে, গান গায়- সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়’- মনে করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পতিসরের এই আয়োজনে তার সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ নওগাঁর সংসদ সদস্যরা।




