ঈদে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গগামী লেনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তীব্র যানজটের। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ সরু হয়ে যাওয়া এবং খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতির।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলায় মহাসড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সংকুচিত হয়ে পড়েছে যান চলাচলের পথ। পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। ফলে সাধারণ সময়েই এই পথে লেগে থাকছে দীর্ঘ যানজট।
বিশেষ করে বিকেলে শিল্পকারখানা ছুটির পর কয়েকগুণ বেড়ে যায় যানজট। সাধারণ সময়ে ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে চালক ও যাত্রীদের।
সড়ক ব্যবহারকারী ও চালকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এখনই যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তবে ঈদের চাপ বাড়লে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে অবস্থা।
তাদের ভাষ্য, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য বাইপাইল থেকে শ্রীপুর অংশটি বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ঈদযাত্রা শুরুর আগেই সড়কের খানাখন্দ সংস্কার এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘নির্মাণকাজের কারণে যেসব স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঈদযাত্রা শুরু হলে নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হবে। যাতে ঘরমুখো মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ঈদে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নির্মাণাধীন অংশে মোতায়েন করা হবে দেড় শতাধিক ট্রাফিক কন্ট্রোলার।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে কাজ করছে পুলিশ। যানজটের শঙ্কা থাকা এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও মোতায়েন করা হবে জেলা পুলিশও।
বিগত রোজার ঈদের মতো এবারও যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ব্যবহার করে প্রতি ঈদে বাড়ি ফেরেন গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় হয়ে উত্তরবঙ্গের অন্তত ২০ জেলার মানুষ। এ কারণে যানবাহনের চাপ সবসময়ই বেশি থাকে এই মহাসড়কে।







