ড. মারুফ
নিষিদ্ধ আ. লীগের চোখ রাঙানি বরদাশত করা হবে না

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দিতে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতির নামে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগের ‘চোখ রাঙানি ও আস্ফালন’ বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে দমন করা হবে। আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দলটি গণতন্ত্র ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দিনের ভোট রাতে ও ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করেছিল।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার বিশ্বরোড, গৌরীপুর, শহীদনগর, জিংলাতলী, রায়পুর ও ইলিয়টগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব বিভিন্ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও অব্যাহত ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দলটি গণতন্ত্র ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং দিনের ভোট রাতে ও ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করেছিল।’
‘আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন খাত ধ্বংস করে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিচ্ছে’— যোগ করেন তিনি।
ড. মারুফের ভাষ্য, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত এবং শান্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ পুরনো ধ্বংসাত্মক মনোভাব নিয়ে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি এসব গণবিরোধী অপতৎপরতা নস্যাৎ করে দেবে।
তিনি বলেছেন, ‘দেশের মানুষ ভালো থাকুক, আওয়ামী লীগ তা চায় না। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দলটি নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা হবে। জনগণের ধাওয়া খেলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হবে।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিমউদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, বিএনপি নেতা আহান্মদ হোসেন তালুকদার, কামাল হোসেন ও আরিফ মাহামুদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন ভূঁইয়া, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহ আলম সরকার, সদস্য সচিব মো. রোমান খন্দকার এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনন্দ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহিউদ্দিন সরকার, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসিফ কবির এবং ছাত্রদল নেতা আবদুল বাসেদ ও রিমন খন্দকারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ড. মারুফ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং মানুষের জানমাল রক্ষায় সন্ত্রাসী সংগঠনের সব অপকর্মের বিরুদ্ধে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
এর আগে, সকালে তিনি দাউদকান্দি সদরে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।





