রংপুরে চার খুন : ডিএনএ পরীক্ষায় ঢাকায় দুই আসামি

রংপুরের আলোচিত চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের আলোচিত চার খুনের ঘটনায় নতুন সূত্র পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার পর গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। রবিবার সন্ধ্যার পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদের ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই আসামিকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। সোমবার তাদের সিআইডির দপ্তরে নিয়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সংগ্রহ করা ৩৫ ধরনের আলামতও রবিবার রাতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসব আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে।
সূত্র জানায়, সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অন্তত তিনটি আলামতে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার তথ্য এসেছে। সিগারেটের ফিল্টার, কামড় দেওয়া শসার অংশবিশেষ ও খেজুরের বিচিতে পাওয়া ওই ডিএনএ কার, তা এখনো শনাক্ত করা হয়নি। এসব ডিএনএ নিহত গণপতি চক্রবর্তী এবং আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী রবিবার রাতে বলেন, ‘সিআইডির ফরেনসিক টিম কয়েকটি আলামত থেকে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে আরও আলামত পরীক্ষা করা হতে পারে। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সিআইডিতে পাঠানো হবে।’
এদিকে ময়নাতদন্তের সময় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীর থেকে পাওয়া নমুনা নিয়েও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ওই নমুনার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে বলে জানা গেছে। তবে মা-মেয়েকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা এখনো পুলিশ বা ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকেও মা-মেয়েকে ধর্ষণের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। নতুন পরীক্ষায় বিষয়টিও যাচাই করা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ফরেনসিক পরীক্ষায় কোনো আলামতের ডিএনএর সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলে গেলে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যাবে। আর ডিএনএ না মিললে ঘটনাস্থলে অন্য কারও উপস্থিতি ছিল কি না, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে তদন্তে।
তবে হত্যাকাণ্ডে দুই আসামির সম্পৃক্ততা এবং পুলিশের দেওয়া হত্যার কারণ নিয়ে নিহতের স্বজনসহ বিভিন্ন মহলে উঠেছে প্রশ্ন। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে আসামিদের ডিএনএর মিল রয়েছে কি না, এসব বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে তদন্তে। ফলে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ প্রতিবেদনের দিকে নজর রয়েছে তদন্তকারী সংস্থার।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে মামলাটি।




