শামুখ মুখে শামুকখোল

শামুকখোল। ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্রী তারিক হাসান।
সবুজে মোড়ানো বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। চারপাশে বর্ষার স্নিগ্ধতা। মাঠের মধ্যে খানে ধীর পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে এক সাদা-ধূসর অতিথি পাখি। ঠোঁটে ছোট্ট একটি শামুক। এ যেন প্রকৃতির আঁকা জীবন্ত এক জলরঙের ছবি।
সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে দেখা মিলেছে শামুকখোলের। ঠোঁটে একটি শামুক নিয়ে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে হেঁটে বেড়ানো পাখিটির মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন স্থানীয় শৌখিন প্রকৃতি আলোকচিত্রী তারিক হাসান।
শামুকখোল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলাভূমি অঞ্চলের পরিচিত একটি পাখি। এর ইংরেজি নাম এশিয়ান ওপেনবিল স্টর্ক এবং বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানাস্টোমাস ওসিটান্স।
মাঝারি আকারের এ সারসজাতীয় পাখির দৈর্ঘ্য সাধারণত ৬৮ থেকে ৮১ সেন্টিমিটার। ডানার বিস্তার ১২০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় এক থেকে দেড় কেজি।
পাখিটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর ঠোঁট। উপরের ও নিচের ঠোঁট পুরোপুরি একসঙ্গে মিলে না, মাঝখানে সামান্য ফাঁক থাকে। এই বিশেষ গঠনের কারণে এটি সহজেই শামুকের খোলস ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। এ কারণেই পাখিটির নাম হয়েছে শামুকখোল।
বাংলাদেশে বর্ষাকালে হাওর, বিল, জলাভূমি ও ধানক্ষেতে শামুকখোল বেশি দেখা যায়। মাঠে পানি জমলে শামুক, ঝিনুক ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে যায়, যা এ পাখির প্রধান খাদ্য।
এ ছাড়া ছোট মাছ, ব্যাঙ ও জলজ পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। কৃষিজমিতে ক্ষতিকর শামুক খেয়ে ফসল রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এ পাখি।
আলোকচিত্রী তারিক হাসান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আগের তুলনায় এখন শামুকখোল অনেক কম দেখা যায়। জলাভূমি ভরাট, পরিবেশদূষণ এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় এদের সংখ্যা কমছে।’
তার মতে, এ ধরনের পাখির উপস্থিতি পরিবেশের সুস্থতার ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা না বাড়লে ভবিষ্যতে এমন মনোরম দৃশ্য হয়তো শুধু ছবিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।





