ফেসবুক ভিডিও ফিরিয়ে দিল ৮ বছর ধরে নিখোঁজ জসিমকে

৮ বছর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিখোঁজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী কাস্টমস এলাকা থেকে ২০১৮ সালে নিখোঁজ হয়েছিলেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ আট বছর। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই সন্ধান মেলেনি তার। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে সেই হারানো মানুষটির সন্ধান মিলল।
নিখোঁজ জসিমকে পাওয়া গেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধায়। দীর্ঘ আট বছর পর গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে পরিবারের তিন সদস্যের সঙ্গে তার আবেগঘন সাক্ষাৎ হয়।
জসিম বালুখালী কাস্টমস এলাকার আবুল হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।
জসিমের ছোট ভাই মিজানুর রহমান জামি বলেছেন, ‘২০০৮ সালে আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০১৮ সালে আমরা তাকে হারিয়ে ফেলি। কল্পনাও করতে পারিনি, তিনি আবার আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন। আল্লাহর কাছে তাদের জন্য অনেক দোয়া করি, যাদের কারণে ভাইকে ফিরে পেয়েছি।’
তিনি জানালেন, গত রবিবার ফেসবুকে ‘HopeNest BD’ নামের একটি পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জসিমের সন্ধান পান তারা। ভিডিওটি দেখার পর সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ করে মিজানুর, তার বড় ভাই ও মামাসহ পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
মিজানুর বললেন, ‘ভাইকে দেখার পর কক্সবাজার থেকে প্রায় হাজার কিলোমিটার ভ্রমণক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়। শিগগিরই আমরা একসঙ্গে ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’
‘হোপনেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন পরিচালনা করেন রংপুরের যুবক জয়নাল আবেদীন রাজিব।
তিনি জানালেন, সম্প্রতি সময়ে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এলাকায় মানসিকভাবে অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় জসিমকে দেখতে পান তিনি। তার পরনে প্যান্ট ছাড়া আর কোনো পোশাক ছিল না। নিজের নাম ছাড়া তিনি তেমন কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না। শুধু তার বাড়ি বালুখালী বলে জানিয়েছিলেন।
জয়নাল জানিয়েছেন, এরপর জসিমকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুন পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সন্ধান পেতে তার দুটি ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক পেজটিতে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কক্সবাজার থেকে তার পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেন। পরে ছোট ভাই মিজানুরের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিই তার হারিয়ে যাওয়া ভাই জসিম।
ছয় বছর ধরে মানবিক কাজে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী জয়নাল বললেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে আপনজনের কাছে ফিরে যাওয়ার এই আনন্দ সত্যিই অসাধারণ। তাদের এই মিলন আমাদের জন্যও অনেক আনন্দের ও আবেগের।’




