নবাবগঞ্জে শূন্যপদ বাড়ছে শিক্ষার্থী কমছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নানা সংকটে জর্জরিত। একদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় কমছে শিক্ষার্থী, অন্যদিকে বাড়ছে শিক্ষক সংকট। উপজেলার ১৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের ১৯০টি পদ শূন্য রয়েছে। আবার ২০টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০০ জনের নিচে নেমেছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ৫০ জনেরও কম শিক্ষার্থী রয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে আবার আছে ৪০০-৭৮৪ জন পর্যন্ত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই অসম চিত্রের সঙ্গে জনবল সংকট প্রভাব ফেলছে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায়।
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৫০ জনের কম। ২০টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১০০ জনের নিচে, ৩৭টিতে ১৫০ জনের নিচে এবং ২৬টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ২০০ জনের নিচে। অন্যদিকে ২০টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ২৫০ জনের বেশি, ১০টিতে ৩০০ জনের বেশি এবং ১৫টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪০০ জনের বেশি। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে আগলা চৌকিঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৮৪ জন।
শিক্ষকদের সংখ্যায়ও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। কামারখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭১ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। নওপাড়া বিদ্যালয়ে ৫৮ শিক্ষার্থীর বিপরীতে চারজন, বাহেরচরে ৭২ শিক্ষার্থীর বিপরীতে চারজন এবং শোলানগর বিদ্যালয়ে ৫৯ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। এ ছাড়া রায়পুর বিদ্যালয়ে ৫২ শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিনজন, চরচরিয়া বিদ্যালয়ে ৭৪ জনের বিপরীতে ছয় এবং চারাখালি বিদ্যালয়ে ৪৬ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন দুজন।
অবশ্য কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বারুয়াখালী বিদ্যালয়ে ৪৫৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১০, শোল্লায় ৪৬৬ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৩ এবং মহব্বতপুরে ৪৪৭ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন।
শুধু শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাতই নয়, জনবল সংকটও প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৩০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত ৭০ জন। অর্থাৎ প্রধান শিক্ষকের ৬০টি পদ শূন্য। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৯৭৩টি। এর মধ্যে কর্মরত ৮৪৩ জন। শূন্য রয়েছে ১৩০টি।
তবে বিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থী কম থাকার কারণ এক নয়। কোথাও ভৌগোলিক অবস্থান, কোথাও যোগাযোগব্যবস্থা, আবার কোথাও আশপাশে মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেনসহ বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথাও বলছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী রাশেদ মামুন বললেন, ‘বিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত এলাকায় ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আওতায় আনা হয়েছে। যেসব শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি, তাদের অনেকেই মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।’
শিক্ষার্থী বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, উঠান বৈঠক, মা সমাবেশ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত এলাকায় শিশু শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় সেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম।



