সাপের কামড়ে ৭ ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক, প্রাণ গেল ওঝার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খেলা দেখানোর জন্য নতুন একটি বিষধর সাপ ধরে আনেন ওঝা। বাড়িতেই দিচ্ছিলেন প্রশিক্ষণ। সেই সাপ কামড়ালো ওঝাকে। ৭ ঘণ্টা ঝাড়ফুঁকের পর মারা গেলেন ওঝা আজাদুল ইসলাম।
গত সোমবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল শিয়ালগাড়ক গ্রামে। মৃত আজাদুল ইসলাম ওরফে ঘুটু (৩০) ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আসাদ মোড়ে প্রতি মঙ্গলবার পাতা খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আজকের খেলা উপলক্ষে গতকাল বিকালে উপজেলার কোচাশহর এলাকা থেকে একটি বিষধর সাপ ধরে আনেন আজাদুল।
নিজ বাড়িতে প্রশিক্ষণের একপর্যায়ে সাপটি কামড় দেয় তাকে। বিষ নামাতে স্থানীয়রা তাকে নিয়ে যায় পাশের শিবসমুদ্র এলাকার আরেক ওঝার কাছে। সেখানে প্রায় ৭ ঘণ্টা করা হয় ঝাড়ফুঁক। সুস্থ না হওয়ায় পরে আজাদুলকে নেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় এনামুল হক বলেছেন, ‘আজাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় পাতা খেলায় সাপ প্রদর্শন করতেন। সম্প্রতি তিনি কলাগাছে সাপ পেঁচিয়ে খেলা দেখাতেন। মঙ্গলবারের আয়োজনে বড় একটি সাপের খেলা দেখানোর পরিকল্পনা ছিল তার। সে উদ্দেশ্যেই নতুন ধরা সাপটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।’
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদার রহমান বলেছেন, ‘সচেতনতার অভাবে দেশে এখনো সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে ওঝার কাছে নেওয়া হয়। বিষধর সাপ না হলে অনেক রোগী এমনিতেই সুস্থ হয়ে যান। এতে অনেকে ভুল করে ঝাড়ফুঁককে কার্যকর মনে করেন।’
কিন্তু বিষধর সাপের কামড়ে দ্রুত হাসপাতালে না নিলে মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।







