‘সন্ধ্যা থেকে মৃত সন্তান নিয়ে বসে আছি, আমাদের যেতে দিন’

মৃত শিশুর মা পূজা রানী দাস
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে ঘটেছে তর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা। মৃত শিশুর দুই স্বজনকে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বানারীপাড়া উপজেলার চাখার এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল দের ৭ দিনের কন্যাশিশুকে অসুস্থ অবস্থায় নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এরপর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী এসে শিশুটির মামা জয়দেবকে মারধর করেন। সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মামুন নামে আরেক যুবকও মারধরের শিকার হন। পরে দুজনকে হাসপাতালের নিচতলার জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
মৃত শিশুর মা পূজা রানী দাস বলেছেন, ‘সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত মৃত সন্তান নিয়ে বসে আছি। আমাদের এখন যেতে দিন। ওদের আর মারধর কইরেন না। আমাদের ছেড়ে দেন।’
তিনি দাবি করেছেন, সন্তানের মৃত্যুর পর তার ভাই আবেগের বশে কিছু কথা বললেও কারও গায়ে হাত তোলেননি। এরপরও তাকে মারধর করে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তালুকদার বলেছেন, মৃত শিশুর স্বজনরা চিকিৎসার্থীদের আটকে রাখার চেষ্টা করেন। কয়েকজন ছাত্রী শিক্ষার্থীর অ্যাপ্রন, ওড়না ও ব্যাগ টান দেন। তাদের ভাষ্য, দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।
আরেক শিক্ষার্থী মুনয়াত মুন জানিয়েছেন, হট্টগোলের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও অশোভন আচরণ করা হয়। পরে তারা আত্মরক্ষায় একটি কক্ষে আশ্রয় নেন।
শিশুটির বাবা উজ্জ্বল দে দাবি করেছেন, সন্তানকে মৃত ঘোষণার পর তার শ্যালক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি শুধু চিকিৎসকদের ওয়ার্ড থেকে যেতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর তাকে ও আরেকজনকে মারধর করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক, মেডিকেল কলেজ প্রশাসন ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। আটক দুই ব্যক্তিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার অলক কান্তি শর্মা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেছেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে ইউনিফর্ম পরে চলাফেরা করতে পারেন এবং রোগীরাও যেন সঠিক চিকিৎসা পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।






