আগামীর চোখ
বিদ্যুৎ বিলে ভূতের আসর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী
আমি একজন ভূত। তেঁতুলগাছের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট। প্রত্যন্ত এক গ্রামের তেঁতুলগাছের মগডালে বসে পত্রখানা লিখছি। এখানে বিদ্যুৎ নেই। জনবসতিও নেই। কারও ঘাড়ে যে চেপে বসব, সে উপায়ও নেই। বেকার বসে থাকি। একঘেয়েমি কাটাতে ‘আগামীর সময়’ পত্রিকা পড়ি। গতকাল পত্রিকা হাতে নিয়ে দেখি ‘মে-জুনে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল’ শিরোনামে বিশাল এক প্রতিবেদন। বিল নিয়ে ছয় কোম্পানির অনিয়মের ফিরিস্তি। িশরোনাম দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমাদের কেন টেনে আনা বাপু! ভূতের জায়গায় মানুষ লিখলে হতো না! বিজ্ঞানের ভাষায় তো ভূত বলে কিছু নেই।
ভূত সমাজ একটা নিয়মনীতি ফলো করে। শেওড়াগাছের ভূত তেঁতুলগাছে আর তেঁতুলগাছের ভূত তালগাছে যায় না। মানুষের মধ্যে নিয়মনীতির তোয়াক্কা কম।
এরা দেখি বছরের পর বছর গ্রাহকের পকেট তিন দিক থেকে কেটেও বহাল তবিয়তে আছে
ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির ফিরিস্তি পড়ে এ বিশ্বাস আরও প্রবল হলো। বিদ্যুৎ অপচয় আর চুরির মাধ্যমে তৈরি সিস্টেম লস, জুন ক্লোজিংয়ে বকেয়া মাস কমিয়ে আয় বাড়ানো এবং মিটার রিডারদের গাফিলতির সব ভার গ্রাহকের কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ গ্রাহক কোনোভাবেই উপকারভোগী নন, কেন তারা বিল মেটাবেন! এমন কাণ্ড তো ভূতেরা করে না! একজন মানুষের ঘাড়ে আমাদের একজনই চাপে। অন্য কেউ চাপতে এলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এরা দেখি বছরের পর বছর গ্রাহকের পকেট তিন দিক থেকে কেটেও বহাল তবিয়তে আছে।
পল্লী বিদ্যুৎ এই অনিয়মে ফার্স্ট বয়। প্রতি বছর সমিতিগুলোকে সিস্টেম লস কমানোর টার্গেট দেয় তারা। সেই টার্গেট পূরণ না হলে জুন ক্লোজিংয়ের আগে বাড়তি বিল করার মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে দেয়! এমন নিপুণভাবে এসব করা হয় যে, কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায় না। মানুষ আমাদের দেখতে পায় না বলে ভূত নামে ডাকে। মানে আমরা অদৃশ্য সত্তা। আমাদের চলাচলের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। পল্লী বিদ্যুৎ দেখি আমাদের মতো অদৃশ্যভাবে কাজ করতে চায়!
গরম বাড়ছে। তার আগে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিল। বিদ্যুতের দেখা নেই। মানুষের জন্য খারাপ লাগে। আমাদের মতো গাছের মগডালে থাকার অভ্যাস নেই বেচারাদের। দুদিন পর গরমের চাপে বাঁচতে গাছেই চড়তে হবে। সবই তো বোঝেন। দেখুন কিছু করা যায় কি না।
ইতি
তেঁতুলগাছের ভূত




