বন্যার ঝুঁকিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল
- টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢল
- প্লাবিত সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রাম
- তিস্তার নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি নিমজ্জিত
- পানির চাপে তিস্তা সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন

ছবি: আগামীর সময়
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রাম। উত্তরাঞ্চলে তিস্তার পানি কোথাও কোথাও বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে বিভাগের পাঁচ জেলায় তৈরি হয়েছে বন্যার ঝুঁকি। পানির চাপে তিস্তা সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
আজ রবিবার দুপুরে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও, বাঁশতলা, জঙ্গলবাড়ি, মাঝেরহাটি, সংসারপাড়া, কলাগাঁওসহ কয়েকটি গ্রাম। ঢলের কারণে সীমান্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যাহত হয়। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর এলাকার ডুবন্ত সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, মেঘালয় অঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড করা হয়েছে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত। এর প্রভাবে জেলার সুরমা, বৌলাই, রক্তিসহ বেড়েছে বিভিন্ন নদীর পানি। শুধু সুরমার পানিই গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ১০৪ সেন্টিমিটার। বর্তমানে নদীটির পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তা দ্রুত বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
চীনের অর্থায়নে শঙ্কা
২১ জুন ২০২৬
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদারের ভাষ্য, উজানের ঢল ও স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সৃষ্টি হয়নি বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি।
এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার নদী তীরবর্তী মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বেলা ৩টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির স্তর ছিল বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ও শনিবার সকালে নদীটির পানি বিপৎসীমার মাত্র পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যদিও তিস্তার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবু নিম্নাঞ্চলের কিছু বসতবাড়িতে পানি ঢুকেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পানি আর কিছুটা বাড়লে নদীর তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিতে পারে বন্যা।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বেড়েছে তিস্তার পানি। বর্তমানে কিছুটা কমলেও যেকোনো সময় তা আবারও অতিক্রম করতে পারে বিপৎসীমা।
তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের তথ্য দিয়েছেন কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে— জানিয়েছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
অন্যদিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধে দেখা দিয়েছে ভাঙন। প্রবল স্রোতে বাঁধের অন্তত ৩০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর ভাঙনরোধে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিংও ভেসে গেছে স্রোতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনের পর স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না নেওয়ায় এবারও একই স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। বাঁধের ভাঙন অব্যাহত থাকলে তিস্তা সেতু, রংপুর-লালমনিরহাট সড়ক এবং আশপাশের কয়েকটি চরাঞ্চল পড়তে পারে হুমকির মুখে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উজান এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে বৃষ্টিপাত। ফলে সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবন ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিস্তাপাড়ে বন্যার ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছেন না রংপুর বিভাগীয় পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব। তিনি বললেন, ‘নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীভাঙন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে নিবিড়ভাবে।’







