বন্যায় গেল ক্ষেতের ধান, আগুনে গেল ঘরের ধান

ছবি : ঘরে থাকা আগুনে পুড়া ধান ও ঘর।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে কয়েলের আগুনে এক কৃষকের বসতঘর, প্রায় ৩০০ মণ ধান ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের সুয়াইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক ইয়াছিন চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পাশের বাড়ির বাসিন্দা হবি মিয়া ঘরের পাশে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক শুনে ইয়াছিন চৌধুরী ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে এবং চালার ওপর আগুনের শিখা দেখতে পান। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘুম থেকে জেগে ওঠেন।
পরে স্থানীয় মসজিদের ইমামকে জানানো হলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে এলাকার মানুষ ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ঘরে থাকা অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় ঘরে থাকা ধান, কৃষি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বের করার সুযোগ পাননি তারা। মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
কৃষক ইয়াছিন চৌধুরী বলেছেন, ‘কয়েলের আগুন থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছি। অনেক কষ্ট করে হাজার মণ ধানের আবাদ করেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানিতে সেই ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে ডুবে যাওয়া জমি থেকে কোনোভাবে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মণ ধান ঘরে তুলেছিলাম। ভেবেছিলাম, ধানগুলো বিক্রি করে অন্তত কিছু লোকসান পুষিয়ে নিতে পারব। কিন্তু সেই স্বপ্নও আগুনে শেষ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘ঘরে থাকা প্রায় ৩০০ মণ ধান মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ছাড়া দুটি পাওয়ার টিলার, সেচকাজে ব্যবহৃত তিনটি মেশিন, প্রায় ২৬০ লিটার ডিজেল, বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম, পাটখড়ি এবং ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। বন্যার পানিতে ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়েছিল, আর এখন ঘরে থাকা ধানও আগুনে পুড়ে গেল। আমি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকার সহযোগিতা করলে হয়তো আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’
মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান সুমন বলেছেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থলে যাওয়ার রাস্তা সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি। পরে আমরা হেঁটে সেখানে পৌঁছেছি। ততক্ষণে ঘরে থাকা ধান, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।




