অবহেলায় ৪ বছর ধরে থমকে পাইকগাছা পৌর ভবনের কাজ

চার বছরেও শেষ হয়নি পাইকগাছা পৌর ভবনের কাজ। ছবি: আগামীর সময়
খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার ‘টাইপ-বি’ পৌর ভবন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ এখন পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বিল নিয়েছে। অর্থ সংকট, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিতি ও তদারকির ঘাটতিতে প্রকল্পটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির চুক্তি স্বাক্ষর হয়। মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্সকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণস্থানে জঞ্জাল জমেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সময় বাড়ানো হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নাগরিক সেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্পের অর্থ ছাড় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বিল নিয়েছে। কাজের অগ্রগতির সঙ্গে বিল পরিশোধের সামঞ্জস্য ছিল কি না। এ বিষয়ে যথাযথ তদারকি হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
পৌর ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পাশাপাশি নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চান স্থানীয়রা।
পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী নুর আহমদ জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পৌরসভার নিজস্ব তহবিলের অর্থে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে তহবিলে অর্থ না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার পেছনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, ঠিকাদার যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন, সে অনুযায়ী তিনি চলতি বিল পেয়েছেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।




