শরণখোলা
দস্যু বাহিনীর সঙ্গে বনরক্ষীদের দুই দফা বন্দুকযুদ্ধ, ৪ জিম্মি উদ্ধার

ছবি: আগামীর সময়
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের গহীন বনে বনরক্ষী ও বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর মধ্যে দুই দফা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে রেঞ্জের শেলার চর টহল ফাঁড়ির সিঙেরটেক এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
এ সময় দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করেন বনরক্ষীরা। ঘটনাস্থল থেকে দস্যুদের ফেলে যাওয়া একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ একটি একনলা বন্দুক, একটি তাজা কার্তুজ ও চারটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।
শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন এ তথ্য।
দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার জেলেরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলার সোনাতলা গ্রামের আ. বারেক খানের ছেলে মাসমু খান, দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. হাসান, খুলনার বটিয়াঘাটা বুজবুনিয়া গ্রামের আফসার আলীর ছেলে নাসিম আলী ও দাকোপ উপজেলার আবু তালেব শেখের ছেলে ইরাক শেখ।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট প্যাট্রোল টিম ও শেলার চর টহল ফাঁড়ির যৌথ টহল চলাকালে খালের মধ্যে ট্রলার দেখে এগিয়ে যান বনরক্ষীরা। এ সময় ট্রলারে থাকা বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা বনরক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। এ সময় আত্মরক্ষার্তে বনরক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালায়। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পল্টাপাল্টি গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে দস্যুরা টিকতে না পেরে ট্রলার ভিড়িয়ে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে বনরক্ষীরা দস্যুদের ফেলে যাওয়া ট্রলার থেকে শেকল দিয়ে বেধে রাখা জিম্মি চার জেলেকে উদ্ধার এবং ট্রলার তল্লাশি করে অস্ত্র, গুলি ও ওয়াকিটকি জব্দ করেন।
এ ঘটনার পর দস্যুদের ট্রলার ও জিম্মি জেলেদের উদ্ধার করে ফেরার পথে বনের ভেতর থেকে বনরক্ষীদের ওপর আবারও গুলি চালায় দস্যুরা। এ সময় দ্রুত ট্রলার চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বনরক্ষীরা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানালেন, ‘উদ্ধার চার জেলেসহ দস্যুদের ট্রলার, অস্ত্র-শস্ত্র শেলার চর টহল ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। বনরক্ষীদের লক্ষ্য করে দুই দফায় সাত রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে দস্যুরা। উদ্ধার জেলেরা নিশ্চিত করেছেন- পালিয়ে যাওয়া দস্যুরা দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য।’
সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিশ্চিত করে পূর্ব বনবিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর ভাষ্য, ‘সিঙেরটেক বনাঞ্চলে দস্যুদের ধরতে তল্লাশী অভিযান শুরু করেছেন বনরক্ষীরা। এ ব্যাপারে কোস্টগার্ডে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’




