বাণিজ্যমন্ত্রী
যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় বদলে যাবে সিলেট

ছবি: আগামীর সময়
২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সিলেট-ঢাকা ছয় লেন মহাসড়ক চলাচলের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে সিলেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভির মাধ্যমে নগর নিরাপত্তা জোরদার এবং রেল যোগাযোগ উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে সিলেটের কুশিয়ারা কনভেনশন হলে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, বিগত সরকারগুলোর আমলে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও এর বাস্তব অগ্রগতি ছিল খুবই কম। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। এমনকি ভূমি অধিগ্রহণের কাজও তখন সম্পন্ন হয়নি।
তিনি বলেছেন, ‘২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই সড়কের কাজ শেষ হবে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে সড়কটির অবয়বও আপনাদের কাছে স্পষ্ট হবে।’
বর্তমান সরকার প্রকল্পটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ সড়কের বিভিন্ন কাজে এখন গতি এসেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমায় নতুন বিসিক শিল্পনগরীর কাছে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের একটি অংশ চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেনের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি জানিয়েছিলেন, প্রকল্পটির ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে পাঁচটির অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। বাকি আটটি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে। গত ছয় মাসে ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি প্রায় ৫৬ শতাংশে এবং ভৌত কাজের অগ্রগতি প্রায় ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
এদিকে সিলেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে তাকে সিলেটে এনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহ আমি আমাদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে সিলেট নিয়ে আসব। তার সঙ্গে আমি আলাপ করেছি, আমরা এখানে একটি এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করব।’
তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশে অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সিলেটের তরুণদেরও এ খাতে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা হবে। যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পরিচালনা করা গেলে সিলেটের বিপুলসংখ্যক তরুণ ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজের সুযোগ পাবেন।
সিলেটে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে যোগাযোগব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, শুধু একটি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। এজন্য উন্নত অবকাঠামো ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম পূর্বশর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি রেল যোগাযোগের উন্নয়নেও কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি না থাকলে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোনো এলাকায় মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থাকলে সেখানে মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
সিলেট নগরকে উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য, সিলেট সিটি করপোরেশন শহরজুড়ে আধুনিক সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব ক্যামেরায় মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি থাকবে এবং রাতেও কার্যকর নজরদারি করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটকে বাসযোগ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য আরও আকর্ষণীয় শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।





