২৪ ঘণ্টার ২০ ঘণ্টাই অন্ধকার পিরোজপুর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
তীব্র গরমে পুড়ছিল পিরোজপুর। এর মধ্যেই গত রবিবার নেমে আসে চরম বিপর্যয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই জেলা জুড়ে ছিল বিদ্যুতের হাহাকার। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। তবে পরদিন সোমবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।
পিরোজপুর গত ২১ জুন পড়ে ব্ল্যাকআউটের কবলে। সেদিন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ সব রেকর্ড ছাড়ায়। ওইদিন মাত্র চার ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেয়েছেন গ্রাহকরা। বাকি ২০ ঘণ্টাই চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
পরিসংখ্যান বলছে, গত শনিবার পিরোজপুর জেলায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৭০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৩৭ মেগাওয়াট। ফলে ওইদিন জেলা জুড়ে প্রায় ৪২ শতাংশ লোডশেডিং করতে হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
গ্রাহকদের ভোগান্তির চরম সীমা ছাড়ায় পরদিন রবিবার। ওইদিন জেলা জুড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই চাহিদা অনুযায়ী সম্ভব হয়নি বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিদ্যুৎ বিভাগ মাত্র চার ঘণ্টা গ্রাহকদের পূর্ণ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়। ওই ২০ ঘণ্টায় আবার লোডশেডিং করতে হয়েছে মোট চাহিদার ২০ শতাংশ। সেদিন জেলায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল ৫৯ মেগাওয়াট এবং গড় প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৪৭ মেগাওয়াট। ওইদিন সর্বোচ্চ ৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৫২ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। ফলে তীব্র গরমে সাধারণ মানুষ মুখোমুখি হন চরম ভোগান্তির, ব্যবসায়ীরা শিকার হন লোকসানের।
টানা লোডশেডিংয়ে জেলার মানুষের উঠেছিল নাভিশ্বাস। শহরের কাপড় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানালেন, শনি ও রবিবার বেচাকেনা পুরো অচল ছিল। গরমে ক্রেতারা দোকানেই ঢুকছিল না। আইপিএস চার্জ করারও সময় পাননি। জেনারেটর চালিয়েও গুনতে হয়েছে লোকসান।
একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. সুমন খান। বললেন, ‘২১ জুন রাতে ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে সারা রাত জেগে কেটেছে। ভাষায় প্রকাশের মতো কষ্ট না।’
সামনে পরীক্ষা থাকায় বিদ্যুতের এমন সংকটে পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতির কথা জানাল কলেজছাত্র সাকিব শেখ।
অবশ্য সোমবার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের চিত্রে বড় পরিবর্তন আসে। এদিন সর্বোচ্চ ৭৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমে ৫ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসে। গতকাল বিকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত জেলার কোথাও লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর বিদ্যুৎ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাফ হোসেন বললেন, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। গ্রাহকদের ‘সাময়িক ভোগান্তি’র জন্য করলেন দুঃখ প্রকাশও।




