বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির বাবুনগরে জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— সংগৃহীত
দেশজুড়ে একটি পক্ষ বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে তা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশ গঠন, অর্থনীতি সচল করা এবং জনগণের সামাজিক ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আজ রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির বাবুনগরে জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘একটি পক্ষ দেশে নানাভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে। আমরা যেভাবে নির্বাচনের সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছি, দেশের স্থিতিশীলতা ও মানুষের শান্তির স্বার্থে আগামী দিনগুলোতেও সেভাবে আমাদের একসাথে থাকতে হবে।’
সরকার গঠনের পর থেকে সৃষ্ট নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তাদের দোসররা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। সরকার গঠনের পরপরই রমজান মাসে বাজারদর অস্থিতিশীল করার একটি চেষ্টা হয়েছিল, যা কঠোর সতর্কতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।’
দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বিগত সরকারের পরিকল্পনাহীন নীতিকে দায়ী করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ না দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন সাময়িক গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এ সমস্যা নিরসনে সরকার স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
দেশের অবকাঠামো ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, সড়ক ও সেতুর মতো যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করতে হবে। দেশে সামাজিক ও ধর্মীয় শান্তির পরিবেশ বজায় থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং আমাদের সন্তানদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে দেওয়া কথা অনুযায়ী সালাম ও দোয়া নিতেই আজ বাবুনগরে আসা। একজন মুসলমান হিসেবে মুখের কথা বা জবান রক্ষা করা ঈমানী দায়িত্ব। আল্লাহ যেন আমাদের সেই তৌফিক দেন, যাতে আমরা জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষ মুসলিম হিসেবে আমরা ধর্মীয় অনুভূতিকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাই। সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং আমরা একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে প্রতিটি সন্তান নিরাপদে ও সুশিক্ষায় বড় হতে পারবে।’
এর আগে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে নয়টি দাবি তুলে ধরেন মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান। এরমধ্যে রয়েছে- আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং রাসূলের শানে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাশ, শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যাকারীদের’ জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা, দাওরায়ে হাদীসের স্বীকৃতি কার্যকর, আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া। মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের দাবিগুলো পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং হেফাজতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




