বহুজাতিক কোম্পানি থেকে আদালতপাড়ার ‘প্রতারক চক্র’

ছবি: আগামীর সময়
বিভিন্ন অভিযোগে একটি বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোহাম্মদ মোজাহেদুল হক কবির। এরপর আসা-যাওয়া শুরু করেন চট্টগ্রাম আদালতে। জড়িয়ে পড়েন আদালতকেন্দ্রিক প্রতারক চক্রে। বিভিন্ন মামলার বাদীর নম্বর সংগ্রহ করে ‘পুলিশ অফিসার’ পরিচয়ে কল দেওয়া শুরু করেন। বাদীর পক্ষে মামলার তদন্ত প্রভাবিত করার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছিলেন টাকা।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তাধীন একটি মামলার বাদীর কাছ থেকে এভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ধরা পড়লেন কবির। নোয়াখালীর সুধারামের গোরীপুর গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামের পিবিআই টিম।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সুফিয়ান আগামীর সময়কে বললেন, ‘ফটিকছড়িতে ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারির অভিযোগে আদালতে করা একটি মামলা আমি তদন্ত করছি। বাদীকে ডাকার পর জানালেন আমার বিকাশ নম্বরে তিনি দুই হাজার টাকা দিয়েছেন। বিকাশ নম্বর যাচাই করে কবিরের তথ্য পাই। প্রতারণার ঘটনাস্থল হিসেবে রাউজান থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করি।’
মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানালেন এসআই আবু সুফিয়ান।
প্রতারণার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পিবিআইয়ের এসআই রবি চন্দ্র দাশ জানালেন, কবিরের বাড়ি নোয়াখালী হলেও ইউনিলিভার কোম্পানিতে চাকরির কারণে চট্টগ্রাম শহরে থাকতেন। বছরখানেক আগে তার চাকরি চলে যায়। এরপরও তিনি চট্টগ্রামেই বসবাস করেন।
‘চট্টগ্রাম আদালতে ঘোরাঘুরি করেন। সিআর মামলা অর্থাৎ যেসব মামলা সরাসরি কোর্টে রেকর্ড হয়, সেগুলোর নথি থেকে বাদীর নম্বর সংগ্রহ করেন। দিনে ১০-১৫ জনকে কল দেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে নেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেন। কেউ কেউ প্রতারণার ফাঁদে পা দেন। গ্রেপ্তারের পর কবির গত কয়েকদিনে ফটিকছড়ির মামলার বাদীর কাছ থেকে দুই হাজার, আরও দুই মামলার দুই বাদীর কাছ থেকে ৫৩০০ ও ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। গত ৫-৬ মাস ধরে তিনি এ কাজ করছিলেন বলে জানালেন।’
নিজেকে কখনো পিবিআই, কখনো সিআইডি কিংবা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আসছিলেন কবির। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানালেন এসআই রবি।




