শিপইয়ার্ডে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু, বিস্ফোরক পরিদপ্তর ঘেরাও

বিস্ফোরক পরিদপ্তর ঘেরাও করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ—ছবি : আগামীর সময়
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিস্ফোরক পরিদপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে ‘জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটি’।
আজ সোমবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংগঠনটি। এরপর মিছিল নিয়ে উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি শেষে উপমহাপরিদর্শক আসাদুল ইসলামের কাছে মহাপরিদর্শক বরাবরে লেখা স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, গ্যাস-ফ্রি সনদ দেওয়ার পরও জাহাজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে মৃত্যুর দায় বিস্ফোরক পরিদপ্তরকে নিতে হবে। তারা গ্যাস-ফ্রি সনদ দেয় না-কী শ্রমিকের মৃত্যুসনদ দেয়, এর জবাব তাদের দিতে হবে।
গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে এমটি রাসি নামে একটি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ আগস্ট আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এর প্রতিবাদে জাহাজভাঙা সেফটি কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল, বিএফটিইউসির সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন নেতা মোহাম্মদ ইদ্রিছ, জাহাজভাঙা যুব নেটওয়ার্কের সদস্য আবু আহমেদ মিয়া, জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন।
সমাবেশে তপন দত্ত বলেছেন, ‘ফেরদৌস স্টিল রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়। জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল সেটা এই দুর্ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে। জাহাজে থাকা বিপজ্জনক গ্যাস শনাক্ত করা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
এ এম নাজিম উদ্দিন বলেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, জাহাজটি কাটার জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের পক্ষ থেকে গ্যাস-ফ্রি সনদ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও শ্রমিকরা প্রাণঘাতি মাত্রার গ্যাসে আক্রান্ত হলেন কিভাবে? অবিলম্বে গ্যাস-ফ্রি সনদের সত্যায়িত কপি প্রকাশ করতে হবে। সনদ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
সমাবেশ থেকে ১০ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়াসহ ১২ দাবি জানানো হয়েছে।







