সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডের বিষাক্ত গ্যাসে মৃত বেড়ে ৯

গ্যাস লিকেজে সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ড শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে আসা এক স্বজন। ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় লিক হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে আরও ৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মারা গেলেন ৯ জন। ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামে ওই কারখানায় আজ শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে।
ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউজকিপিংয়ের কাজ করার সময় গ্যাস লিক হয়েছে বলে জানা যায়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকদের পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ (চমেক) আশপাশের নানা হাসপাতালে।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন প্রথমে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। পরে আরও ৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। চমেক হাসপাতালে আনার পর মারা গেছেন তারা। অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ থেকে ১৫ জন।
মৃতরা হলেন— চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার মোহাম্মদ সেকান্দরের দুই ছেলে মোহাম্মদ মনসুর (৫৫) ও মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন (৫১), পাবনার সুজানগর থানার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল আলীম সুজন (৩৬), গাইবান্ধা সদর থানার উত্তর কুপতলার মোহাম্মদ হারুন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রানা মিয়া (২৩), চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার আব্দুল মালেকের থানার হাবিবুর রহমান (৫১), একই থানার হবেন্দ্র দাশের পুত্র পলাশ দাশ (৩৫) ও প্রদীপ দাশের পুত্র সানি দাশ, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ রানা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ খোকন মিয়া (২৩) ও হানিফের পুত্র মতিউর রহমান।
ঘটনার খবর পেয়ে চমেক হাসপাতালে এসেছেন ভাটিয়ারী এলাকার মো. মহিউদ্দিন। বোনজামাই মনছুরের খোঁজে এসে পান তার মৃতদেহ। তিনিই জানান, মনছুরের ছোট ভাই নাছিরও গ্যাসের বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন।
‘সকাল ৭ টায় দুই ভাই ঘর থেকে বের হয়ে কাজে যায়। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে দুর্ঘটনার খবর আসে। ততক্ষণে সব শেষ। আমার বোনের দুই মেয়ে। এখম তারা কীভাবে চলবে জানি না’— বলছিলেন মনছুর।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছে শুনেছি।’
ঘটনাস্থলে এখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোয় পরিত্যক্ত জাহাজ ভেঙে-কেটে মূলত রড তৈরির লোহা সংগ্রহ করা হয়। সেখানে কাজটি অনিরাপদ পরিবেশে করা হয় বলে অভিযোগ বহুদিনের।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোয় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত তিন শ্রমিক নিহত এবং ৩৮ জন আহত হন।




