কোটি টাকার স্বর্ণ লুট, এক আসামি ধরতেই পার ২ বছর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম নগরীতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুটের একটি ঘটনা বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। দুই বছর ধরে তদন্তের পর ঘটনায় জড়িত মাত্র একজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে উদ্ধার করা যায়নি এক রতি স্বর্ণালংকারও।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানালেন, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনতাই করা একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মোহাম্মদ সাজু মিয়া (৩৭) নামে একজনকে গত রবিবার ঢাকার গোলাপবাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। পরদিন আদালতে জবানবন্দি দিয়ে সাজু জানান, তিনি পুরো ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরও ৬ জন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই (মেট্রো) উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ বললেন, ‘ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ী মামলায় কারও নাম উল্লেখ করেননি। কাউকে চিনতে পারা কিংবা সন্দেহ করার কথাও জানাননি। রাত পৌনে ১০টার দিকের ঘটনা। এলাকায় আলোর স্বল্পতা ছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে জড়িতদের চেহারা ভালোভাবে আসেনি। এরপরও আসামি শনাক্তের পর গ্রেপ্তারে মাসখানেক সময় লেগেছে। সাজু মিয়া বারবার অবস্থান বদল করছিলেন। গাইবান্ধা, মাদারীপুর, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার অভিযান চালাতে হয়েছে।’
২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর স্বর্ণ ব্যবসায়ী পুলক দাশ কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর হাজারী লেইনের নবরূপা শিল্পালয় নামে একটি স্বর্ণালংকার তৈরির কারখানার মালিক।
মামলায় পুলক দাশ অভিযোগ করেন, মামলার ১১ দিন আগে ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর তিনি নগরীর নিউ মার্কেট থেকে অটোরিকশায় করে ফিরছিলেন। নগরীর কেসিদে রোডে শহীদ মিনারের নিচে ৭-৮ জন লোক ডিবি সদস্য পরিচয়ে অটোরিকশার গতিরোধ করেন। এদের মধ্যে একজনের হাতে ওয়াকিটকি ও হাতকড়া ছিল। তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতকড়া পরানো হয়। এরপর তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায়।
যাত্রাপথে তাকে মাইক্রোবাসের ভেতর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি ও মারধর করে প্রায় ৭৮ ভরি বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও মোবাইল, হাতঘড়িসহ সোয়া এক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নেয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, মামলাটি প্রথমে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
এসআই আব্দুর রশীদ বললেন, ‘ছিনতাই করা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করি। কুমিল্লার চান্দিনা থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করি। কিন্তু আসামি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে নিউ মার্কেটের সিসিটিভির কিছু ফুটেজ পাই। সেখানে সাজু শনাক্ত হয়। তাকে নিউ মার্কেটে ব্যবসায়ী পুলক দাশকে অনুসরণ করতে দেখা গেছে।’
সাজুর জবানবন্দিতে ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ হওয়ায় তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার সম্ভব হবে বলে জানালেন এসআই রশীদ।








