২১ ঘণ্টা পর মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেন মাহাদী

মুক্ত হয়ে থানার সামনে মাহাদী হাসানসহ আরও কয়েকজন— সংগৃহীত
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান। আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে পুলিশ হেফাজতে থাকা আরও কয়েকজনের সঙ্গে বের হন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা শেষে মুচলেকা রেখে মাহাদীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে মাহাদীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা শেষে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
গতকাল সোমবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে থেকে মাহাদীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে সেখানে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশ গিয়ে মাহাদীকে তাদের সঙ্গে যেতে অনুরোধ করে। তিনি যেতে রাজি না হওয়ায় তাকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
তবে মুক্তির পর এ বিষয়ে মাহদী হাসানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠনটির হয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পান তিনি। ওই বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন মাহাদী। পরে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকার কারণে তার পরিচিতি আরও বাড়ে।
গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আটক করে পুলিশ। এরপর মাহাদী তার অনুসারীদের নিয়ে থানায় গিয়ে নয়নকে আটকের কারণ জানতে চান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন বানিয়াচংয়ের ‘নাইন মার্ডার’ প্রসঙ্গ টেনে মাহাদীকে বলতে শোনা যায়, ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’
ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ওসিকেও হুমকি দিয়েছেন এবং নয়নকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ মাহাদীকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে জামিন পান তিনি।







