বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
‘দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত বাংলাদেশ। চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজের সূচনা শুধু একটি প্রকল্পের উদ্বোধন নয়, বরং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন ভিত্তি’, বলছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বুঝতে পেরে বিনিয়োগ করার জন্য চীনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।
একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেন। পাশাপাশি সিইআইজেড প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আনোয়ারাসহ চট্টগ্রামের বাসিন্দারা কমর্সংস্থানের সুযোগ পাবেন, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তার ভাষ্য, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নির্বিঘ্ন কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছে। এর মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন, সহজে ইউটিলিটি সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সময়মতো, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত এই জোন দেশের প্রথম। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে আলোচনা ও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর নানা জটিলতায় ঝুলে ছিল প্রকল্প। এক দশক অপেক্ষার পর যাত্রা শুরু হলো সিইআইজেডের। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পরই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই প্রকল্পে গতি পায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, হুমাম কাদের চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, এমএম ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানিসহ দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানে গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। জিটুজি উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এটি নির্মিত হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজের অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা, আর বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ দেবে চীন।
২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বাস্তবায়নের মোট সময় পাঁচ বছর ধরা হলেও প্রথম তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা নির্মাণের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা আছে।
সরকারের আশা, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে নতুন গতি আসবে। এখানে গড়ে উঠবে বস্ত্র, প্রযুক্তিনির্ভর তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, মেডিকেল ডিভাইস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যালসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প।






