‘জনগণের পুলিশ হতে চাই, নিপীড়নের নয়’

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নবনিযুক্ত কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী— আগামীর সময়
‘আমরা জনগণের পুলিশ হতে চাই, নিপীড়নের পুলিশ নয়। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ ছাড়া আধুনিক পুলিশিং সম্ভব নয়’— এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। সভায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পুলিশের সমসাময়িক বিভিন্ন কাজ নিয়ে জানতে চাওয়া হয় ও প্রশ্ন করা হয় সিএমপি কমিশনারের কাছে। প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আইন প্রয়োগের চেয়ে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বললেন, ‘সেখানে রাস্তার মাঝখানে কেবল একটি হলুদ দাগ থাকলেও মানুষ নিয়ম মেনে চলে। আমাদের দেশেও মানুষের মননে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বললেন, ‘পুলিশ যেমন জনগণের জন্য কাজ করে সাংবাদিকও জনগণকে জানানোর জন্যই কাজ করে তাই উভয়ের মধ্যে একটি সুন্দর সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।’
প্রবীণ সাংবাদিক ওসমান গণি মনসুর আশা প্রকাশ করে বললেন, ‘নতুন কমিশনারের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’
আলোচনায় সাংবাদিক নেতারা জানান, আগে সিএমপি কমিশনারদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা গেলেও বর্তমানে তথ্য পাওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার তাগিদ দিয়ে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ অপকর্মে জড়ালে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সভায় উপস্থিত সকলে একমত পোষণ করেন যে, একটি জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক এম. এ. মালেক। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, হোসেন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকরা।





