‘হঠাৎ’ চুয়েটের ভিসি বদল, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা

ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম
নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক সায়েমকে আকস্মিক ‘অপসারণ’ করে কুয়েটের শিক্ষককে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া নিয়ে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তার অবসর গ্রহণের তারিখ এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন, বলা হয় এতে।
এ ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবিতে সোমবার রাতেই তারা মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচিতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়েটের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
চুয়েটের মেটারিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ মাহমুদ সাজিদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘সায়েম স্যার আমাদের চুয়েটের শিক্ষক। উনি শিক্ষার্থীবান্ধব। শিক্ষার্থীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। দলবাজ নন। সায়েম স্যারকে নিয়োগের পর থেকেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উনাকে আওয়ামী লীগের দালাল, ফ্যাসিবাদের দোসর বলে ট্যাগ দিয়ে আসছিলেন। শেষপর্যন্ত উনাকে অপমানজনকভাবে অপসারণ করা হল। আমরা শিক্ষার্থীরা এটা মেনে নিতে পারি না।’
‘নতুন ভিসি কুয়েটের প্রো-ভিসি ছিলেন। উনার বিরুদ্ধে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। তাকে কুয়েট থেকে এনে কেন চুয়েটের ভিসি করতে হল আমরা জানি না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নতুন ভিসিকে ক্যাম্পাসে আসতে দেবেন না বলে অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।’
নাম প্রকাশে অনাগ্রহী চুয়েটের ২১তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী জানালেন, চুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে অপমানজনক হিসেবে বিবেচনা করছেন। চুয়েটের সবচেয়ে সিনিয়র হিসেবে ২১তম ব্যাচের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরুর বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্যমত্য হয়েছে। ১৯ ও ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে থাকবেন। প্রত্যেক ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘ছাত্রদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা আছে। এটা নিয়ে আমরা মিটিংয়ে বসেছি। আমরা দেখছি কী করা যায়।’
বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৮ জুলাই তিনি দায়িত্ব নেন।



