চাঁদাবাজ দখলদারদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিন : আমির খসরু

চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী— রনি দে
এলাকায়-এলাকায় চাঁদাবাজ, দখলদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে মন্ত্রী এ কথা বললেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘পুলিশের জন্য বসে থাকবেন কেন? আমরা কি চিনি না আমাদের এলাকায় কারা মাদকের ব্যবসা করে? তাহলে পুলিশের জন্য অপেক্ষা করব কেন? মাদক ব্যবসায়ী যারা আছে পুলিশের হাতে তুলে দিন। এলাকায় যারা চাঁদাবাজি করে দখলদারি করে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিন।’
রাজনীতির নামে যারা সরকারের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করছে তাদের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি, ‘দেশের উন্নয়নের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না। মানুষ অনেক কষ্ট করে একটি রাজনৈতিক সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। অনেক কষ্টের পর অনেক ত্যাগের বিনিময়ে একটি নির্বাচন হয়েছে। গণতান্ত্রিক নির্বাচন। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে একটি নির্বাচিত সংসদ হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে নির্বাচিত সরকার হয়েছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু আরও বললেন, ‘সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে পরিপূর্ণভাবে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। সরকার সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সরকারকে সহায়তা করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্পন্ন করছেন। অপশক্তি বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে। কিন্তু সেটা আমরা করতে দিতে পারি না। সবাই ভালো থাকব। দেশ ভালো থাকবে। এজন্য আমরা এত ত্যাগ স্বীকার করেছি। পাঁচ বছর পর বিশ্বের সামনে একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা উপহার দিতে পারব ইনশাল্লাহ।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, ‘শুনছি পাঁচ তারিখ নাকি এক হাজার গাড়ি নিয়ে একটা র্যালি হবে। কিসের বিরুদ্ধে র্যালি হবে? বলে দেশে তেল নাই গ্যাস নাই কিছু নাই। এক গাড়িতে যদি ২০০ লিটার তেল লাগে তাহলে এক হাজার গাড়িতে ২ লাখ লিটার তেল লাগবে। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির হিপোক্রেসি। অন্তরে এক আর মুখে চায় বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে। মনে রাখবেন, তারেক রহমানকে পাঁচ বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে এদেশের জনগণ। সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধান আমরা এই সময়ের মধ্যে করব।’
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, নগর কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করও বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা। ব্যানার, ফেস্টুন, দলীয় ও জাতীয় পতাকা নিয়ে এতে অংশ নেন তারা। ঢাকঢোল বাজিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে লালদীঘি চত্বরে গিয়ে র্যালি শেষ হয়।







