সিডিএ চেয়ারম্যান কোথায় ক্ষোভ মেয়রের
- আমি প্রচারবিমুখ, তাই ক্যামেরা নিয়ে যাইনি : সিডিএ চেয়ারম্যান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। প্রকল্পটির কাজের কারণে দুইদিন ধরে নগরীর একাংশ পানিতে তলিয়ে আছে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। কোটি কোটি টাকার সম্পদেরও ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সিডিএর চেয়ারম্যানের দেখা মেলেনি নগরীর কোথাও। পানিতে ডুবে যাওয়া এলাকাও দেখতে যাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরাও সমালোচনায় মুখর।
গতকাল পানি ওঠার পর থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় দৌড়ঝাঁপ করেছেন সিটি মেয়র। তিনি নগরবাসীর কষ্টের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম কোনো বার্তাও পাঠাননি গণমাধ্যমে। যদিও তার সংস্থার প্রকল্পের কারণেই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে।
মন্ত্রণালয়ের সভায় অংশ নিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় এসেছি। এর আগে প্রকল্প এলাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি প্রচারবিমুখ। তাই ক্যামেরা নিয়ে যাইনি। সেটি প্রচারও করিনি
বুধবার দুপুরে জলাবদ্ধ প্রবর্তক মোড় পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের জন্য নগরবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি নিজেও দুঃখ প্রকাশ করেছি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে কাজটা করছে সেনাবাহিনী। গতকাল তাদের আমি দেখিনি। আজ আমি আশা করেছিলাম সিডিএ চেয়ারম্যান অন্তত এখানে থাকবেন।
হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম জানালেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সভায় অংশ নিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় এসেছি। এর আগে প্রকল্প এলাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি প্রচারবিমুখ। তাই ক্যামেরা নিয়ে যাইনি। সেটি প্রচারও করিনি। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে খালের বাঁধ কেটে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এরপর থেকে খালগুলো থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’ তার দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
মঙ্গলবার অফিস সময়ে সারাদিন কার্যালয়ে ছিলেন চেয়ারম্যান। তখন তার দেড় কিলোমিটার অদূরেই জামালখান বাই লেইন পানিতে ডুবেছিল। বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন এখানকার বাসিন্দারা, এমন তথ্য জানিয়েছে সিডিএর সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা।
জামালখান এলাকার বাসিন্দা শৈবাল পারিয়ালের মন্তব্য, পানি প্রবাহের পর্যাপ্ত বিকল্প পথ না রেখে বাঁধ দেওয়ায় বাসা-বাড়ি ডুবেছে। মানুষ কষ্ট পেলেও যারা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন তাদের দেখা মেলেনি।
ফেসবুকে সাখাওয়াত হোসাইন ও সাইফুল করিম আরিয়ান নামে দুইজন লিখেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। তাদের প্রকল্পের কারণে নগর ডুবে যাচ্ছে, সেই সিডিএ চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীদের কোনো খবর নেই।
সিটি মেয়র ও সিডিএ’র কর্মকর্তাদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য জামালখান ও হিজড়া খাল সংস্কার কাজ চলছে। এ জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ আটকে গিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
‘এখানে পাহাড়ধস হয় না’
২৯ এপ্রিল ২০২৬
‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। প্রকল্পটির ব্যয় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ১৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির আওতায় সংস্কার করা হবে ৩৬টি খাল। চলতি মৌসুমে ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জামালখান ও ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার হিজড়া খাল সংস্কার কাজ চলছে। দুইটি খালের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য খালগুলোর বিভিন্ন অংশে অন্তত ৩০টি বাঁধ দেওয়া হয়েছে।
বাঁধের কারণে মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি ২৪ ঘণ্টায়ও নামেনি পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায়। বুধবার দুপুর ১২টায়ও এই এলাকার ১ নম্বর রোডে জমে ছিল হাঁটু পানি। প্রবর্তক মোড়েও কোমর পানি জমে যায়। পানিতে ভিজে জুবুথুবু হয়ে এই পথ পাড়ি দিয়েছেন নগরবাসী।





