চিঠি পাঠানোর খরচও দ্বিগুণ হলো
- ৫ টাকার ডাকমাশুল হচ্ছে ১০ টাকা
- পার্সেলের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকার জায়গায় হচ্ছে ২০ টাকা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চিঠি লিখে হলুদ খামে ভরে প্রিয়জনকে আবেগ-অনুভূতি জানানোর দিন ফুরিয়েছে অনেক আগেই। ডিজিটাল যুগে চিঠির স্থান দখল করেছে মেসেজ। ইমেইল। তবে সরকারি নথি, বাণিজ্যিক পার্সেল আর ই-কমার্স পণ্যের জন্য ডাকঘর এখনো বড় ভরসা। এবার সেই সরকারি ডাকসেবার মাশুল একলাফে দ্বিগুণ করল সরকার। এতে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে অনলাইন ব্যবসায়ীদের কেনাকাটা ও চিঠিপত্র পাঠানোর খরচ বাড়ছে আজ ১ অক্টোবর থেকে।
এ প্রসঙ্গে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয় বাড়বে, এটা ঠিক। লোকসান কমিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
সর্বশেষ ২০২২ সালে ডাকমাশুল সংশোধন করা হয়েছিল। চার বছর পর ২০২৬ সালের অক্টোবরে সব ধরনের সেবায় নতুন মাশুল আদায় শুরু হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি মাশুল বেড়েছে আন্তর্জাতিক পার্সেল ও এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস বা ইএমএসে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সাধারণ চিঠিপত্র, বুকপোস্ট এবং প্রদেয় বার্তা বা এডি গ্রাহকসেবাতেও বড় অঙ্কের মাশুল বেড়েছে।
আগের মাশুলের সঙ্গে বর্তমান মাশুলের ব্যবধান বেশ বড়। আগে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সাধারণ চিঠির জন্য ন্যূনতম ডাকমাশুল ছিল ৫ টাকা, নতুন মাশুল দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে প্রদেয় বার্তা বা এডি ফি ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা। রেজিস্ট্রেশন ফি ৩ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা। ই-কমার্স পার্সেলের ক্ষেত্রে আগে যেখানে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা লাগত, এখন প্রথম কেজির জন্য দিতে হচ্ছে ২০ টাকা।
ডাক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল শেখ সাইফুল আলম বললেন, ‘ডাক বিভাগের সার্ভিসের তুলনায় মাশুল বাড়ানো হয়েছে ন্যুনতম। সব খাতে একই হারে মাশুল বাড়াইনি। এখনো বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়েও আমাদের খরচ অনেক কম।’
মাশুল বাড়লেও বেসরকারি পার্সেল ও দেশীয় কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর তুলনায় সরকারি ডাক ব্যবস্থা এখনো বেশ সাশ্রয়ী। বেসরকারি কুরিয়ারে সাধারণ ডকুমেন্ট পাঠাতে শহরের ভেতরে ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং শহরের বাইরে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হয়। সে তুলনায় ডাক বিভাগের নতুন মাশুল— যেমন চিঠিতে ২৩ টাকা বা সাধারণ পার্সেলে ৫০ টাকা, যা যথেষ্ট সাশ্রয়ী।
ই-কমার্স উদ্যোক্তা মিশকাতুল আজম বললেন, ‘শহর জুড়ে দ্রুত প্যাকেজ পণ্য পাঠাতে বেসরকারি কুরিয়ারকে বেছে নেওয়া হয়। আর কম খরচে পণ্য পাঠাতে ডাক বিভাগের বিকল্প ছিল না। এখন ধীরে ধীরে সেই মাশুলও বাড়ছে। ডাক বিভাগ সার্ভিসকে উন্নত করলে বেসরকারি খাত প্রতিযোগিতায় টিকে উঠতে পারবে না।’
আন্তর্জাতিক গন্তব্যে বেসরকারি বা বিদেশি ডাক সার্ভিস বেশ ব্যয়বহুল। আন্তর্জাতিক চিঠিপত্র ও নথি পাঠানোর সর্বনিম্ন ফি আগের চেয়ে প্রায় ৫০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ছোট বুকপোস্ট ও ছোট পার্সেলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চল বা জোনভেদে খরচ বাড়ছে। বিমান ডাক ও সাধারণ ডাকের মাশুলে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত ফুয়েল ও হ্যান্ডলিং চার্জ। আগে যেখানে এশিয়া বা ইউরোপের দেশে সর্বনিম্ন ওজনের পার্সেল পাঠাতে ৩০০-৫০০ টাকা লাগত, নতুন হারে তা বেড়ে ৭৫০ থেকে ১ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
লোকসানে থাকা এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া ডাক অধিদপ্তরের আয় এই নতুন মাশুলের মাধ্যমে বছরে কয়েকগুণ বাড়বে। বিশেষ করে ই-কমার্স পার্সেল, মানি অর্ডার কমিশন ও রেজিস্ট্রেশন ফি থেকে বড় অঙ্কের বাড়তি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিভাগটি।



