বাবার অসুস্থতার কথা বলে ভাতিজিকে অপহরণ, চাচাসহ গ্রেপ্তার ৩

ছবি: আগামীর সময়
স্কুল থেকে ফিরছিল সাত বছর বয়সী শিশুটি। পথে সামনে এসে দাঁড়ায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সেখানে বসা শিশুটির চাচা জানালেন, তার বাবা গুরুতর অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি। তাকে যেতে বলেছে। সরল বিশ্বাসে শিশুটি উঠল অটোরিকশায়। সেই চাচা তাকে বাসায় নিয়ে আটকে রাখেন দুই দিন।
তথ্য পেয়ে পুলিশ অটোরিকশার সূত্র ধরে চাচাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে।
আজ বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম।
অপহৃত শিশুটির বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে। পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা স্কুলের নার্সারির ছাত্রী।
তাকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন মোহাম্মদ রাকিব (২২), মোহাম্মদ ফয়সাল (৩২) ও জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের থেকে অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে ফয়সাল শিশুটির বাবার মামাতো ভাই।
পুলিশের ভাষ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) স্কুল থেকে ফেরার পথে শিশুটি অপহরণের শিকার হয়। স্কুল ছুটির পরও বাসায় না ফেরায় তার বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অটোরিকশাটির মালিক হিসেবে ফয়সালকে শনাক্ত করে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে ঘটনার সময় অটোরিকশায় থাকা ফয়সালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
আজ বুধবার সকালে উপজেলার সরফভাটা ইত্যাদি মোড় এলাকায় ফয়সালের ভাড়া বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
চাচা ফয়সালই শিশুটিকে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী বলে জানালেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়াত হোসেন। বললেন, ‘ফয়সালের পরিকল্পনা ছিল একেবারে নিখুঁত। তাকে যাতে শিশুটির সন্দেহ না করে, সেজন্য অপহরণ করে শিশুটিকে নিজের বাসায় আটকে রেখে আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজির নাটকও করে।’
কী কারণে শিশুটিকে অপহরণ করেছিল? জবাবে এএসপি বেলায়াতের ভাষ্য, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটির বাবা ও ফয়সাল একই সঙ্গে বিদেশে ছিলেন। আবার একসঙ্গে তারা ফেরত আসেন। সম্ভবত তাদের মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধ আছে। এর জেরে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল ফয়সাল।’




