চট্টগ্রামে বাণিজ্যমন্ত্রী
ভোগ্যপণ্যের কোথাও কোনো সমস্যা নেই

ছবি: আগামীর সময়
ভোগ্যপণ্যের জন্য কোথাও কোনো সমস্যা নেই বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। একইসঙ্গে রমজানের জন্য যে পরিমাণ ভোগ্যপণ্য পাইপলাইনে আছে, যে পরিমাণ পণ্যের ঋণপত্র খোলা হচ্ছে, যে পরিমাণ কনফার্ম সোর্সিং করা আছে। সে হিসেবে আমাদের সাফিসিয়েন্টলি স্টকড বা পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও মন্তব্য মন্ত্রীর।
রমজান মাসে সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়ানোর যেকোনো চেষ্টা সরকার সহ্য করবে না বলেও হুমকি আসে মন্ত্রীর বক্তব্যে।
চট্টগ্রামে এসে চট্টগ্রাম চেম্বারে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিল্প উদ্যোক্তাসহ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এই আশ্বাস দেন।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম চেম্বারের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার মিলনায়তনে এই সভা চলে।
মন্ত্রী বলেন, পণ্য উৎপাদন করে সরবরাহের জন্য একটি পরিকল্পিত শৃঙ্খল ব্যবস্থা তৈরি করছে সরকার। অঞ্চলভিত্তিক কৃষির সম্ভাবনাগুলোর ম্যাপিং করবে। যাতে সবজিসহ অন্যান্য পণ্য সারা বছর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল দামে পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধে পড়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। জবাবে মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির জানালেন, তিনি সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
বৈঠকে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযোগকারী সড়কগুলোতে ১৩ টনের ওজনসীমার বিধিনিষেধ নিয়ে আপত্তি জানান। এর ফলে লজিস্টিক খরচ বাড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য পরিবহনের খরচ কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, কারণ এটি সরাসরি পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। আমদানিকারক, উৎপাদক ও পরিবেশকদের মধ্যকার সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিবন্ধকতা বা বিশৃঙ্খলা দূর করতে সরকার কাজ করছে।
পণ্যের দাম কমাতে সহায়তার জন্য সরকার কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি কর যৌক্তিক করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও মন্ত্রী জানান।
জ্বালানির দাম সমন্বয়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মন্ত্রী জানালেন, একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা, তবে ন্যূনতম সমন্বয়ের আগে সরকার এর প্রভাব যতটা সম্ভব নিজেরা বহন করার চেষ্টা করেছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক আগামী রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আশ্বাস দিলেন।
তার বক্তব্য, মূল পণ্যগুলোর প্রাপ্যতা ও দাম পর্যবেক্ষণে চেম্বার ১৫ দিন পর নিয়মিত আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। আমরা যদি দেখি কোনো পণ্যের সরবরাহ কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেব।
চেম্বার সভাপতি চট্টগ্রাম বন্দরের লজিস্টিক সমস্যা সমাধান এবং বন্দর থেকে দেশের অন্যান্য স্থানে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ করে মহাসড়কে ১৩ টনের ওজনসীমা প্রত্যাহার এবং চট্টগ্রাম থেকে কার্গো পরিবহনের জন্য লাইটার জাহাজের ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব বন্ধ করার দাবি জানান।
লাইটার জাহাজের ভাড়া সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করার এবং এই খাতে আরও বেশি প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করারও দাবি তার।
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, বিজিএমইএ সাবেক সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়বসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।



