সীতাকুণ্ড
বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ: অস্ত্রধারী ২ যুবকের পরিচয় শনাক্ত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অস্ত্রধারী দুজনের নাম সাদেক ও সিরাজ বলে জানা গেছে। উভয়ে বিএনপির কর্মী। তবে বিবদমান কোনো পক্ষ অস্ত্রধারী দুজনকে তাদের কর্মী বলে স্বীকার করছে না।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা দুইপক্ষের মাঝখানে ছিলাম। এজন্য অস্ত্রধারী কাউকে আমরা সেভাবে দেখতে পাইনি। পরবর্তীতে আমরা ছবি ও ভিডিও দেখে নিশ্চিত হয়েছি, দুই যুবকের হাতে দুটি অস্ত্র ছিল। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। অভিযান চলছে। অবশ্যই গ্রেপ্তার হবে।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় নেতাকর্মীদের দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আসলাম চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নীল পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা সিরাজকে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তার বাড়ি মীরসরাই উপজেলার হাইদকান্দি গ্রামে বলে নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষের মধ্যে লাল শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা আরেকজনকে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার নাম সাদেক। তার বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাচতর গ্রামে।
দুই অস্ত্রধারীকে নিয়ে আসলাম ও সালাহউদ্দিনের সমর্থকরা বাকযুদ্ধে নেমেছেন। ফেসবুকে আসলামের সঙ্গে সাদেক ও সিরাজের একাধিক ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আসলাম সমর্থকরা এসব ছবি এআই দিয়ে তৈরি করা বলে দাবি করছেন। অস্ত্রধারীরা ‘সালাহউদ্দিনের লোক’ বলেও দাবি তাদের।
কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আগামীর সময়কে বললেন, ‘অস্ত্র, ক্যাডার, সন্ত্রাসের রাজনীতি আমি করি না। যাদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে তারা কার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছে সেটা আপনারা যাচাইবাছাই করে দেখুন। আমার সঙ্গে যদি সন্ত্রাসী থাকত, তাহলে আমাদের ওপর হামলা হত না।’
আসলাম চৌধুরী মোবাইল ফোনে কল রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার অনুসারী সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মহিউদ্দিন বললেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করছিলাম। তারা সরাসরি অস্ত্রধারীদের নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে। এরা বিএনপির কর্মী নয়। এরা সন্ত্রাসী।’
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল বললেন, ‘অস্ত্রধারী একজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। আপাতত নাম-পরিচয় প্রকাশ করছি না। অস্ত্রধারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’






