চট্টগ্রামে ৭ খালের ৩৯ জায়গায় বাঁধ, মাটি ও আবর্জনা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতার জন্য ৭ খালে ৩৯ প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়েছে। খালগুলোর কোথাও বাঁধ, কোথাও নির্মাণসামগ্রী, কোথাও আবার আবর্জনা ও মাটি জমে আছে। বৃষ্টি হলে এসব প্রতিবন্ধকতায় পানি আটকে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী শনিবার জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে আসবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নগরীর খাল-নালা সচল রাখা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে নগরীর টাইগারপাস সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, বৈশাখের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতাকে দুর্ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
গত মাসের শেষে নগরীতে দুইদিন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের পর সিটি মেয়রকে আহ্বায়ক করে ৩০ এপ্রিল এ কমিটি গঠন করে সরকার। এরপর সাত খাল এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণ অনুসন্ধানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৬টি কমিটি করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শন করে যেসব প্রতিবন্ধকতা পেয়েছে, সেগুলো সভায় উপস্থাপন করে কমিটি।
সভায় চান্দগাঁও ও মুরাদপুর এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য ১১টি স্থানে প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে চাক্তাইখাল, মির্জাখাল ও আশপাশে নালায় বাঁধ, মাটি ও আবর্জনা ঠাসা পেয়েছে।
২৯ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার জন্য ৫টি স্থানকে শনাক্ত করা হয়েছে। এখানে রামপুর খালের মুন্সীপাড়া থেকে রুপসা বেকারি পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকায় খালে নির্মাণসামগ্রী ও শিট পাইল এবং বিকল্প পানি যাওয়ার জন্য বড় বড় লোহার পাইপ রয়েছে। এ ছাড়া খালের ভেতর মাটি ফেলে অস্থায়ী রাস্তা করা হয়েছে। বরফকল এলাকায় খালে মাটি দিয়ে ভরাট, নজির আহমেদ চৌধুরী সড়ক এলাকায় খালে অস্থায়ী রাস্তা ও খালে আবর্জনা রয়েছে।
জামালখান এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য ৭টি স্থানে প্রতিবন্ধকতা পেয়েছে কমিটি। জামালখান খালের সেবক কলোনি মালিপাড়া, লিচু বাগান, দেওয়ানবাজার ও সাব এরিয়া এলাকায় খালে বাঁধ, হেমসেন লেইন এলাকায় প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের জন্য খালে মাটি, রহমতগঞ্জ এলাকায় খালে ময়লার স্তূপ ও পাইপ রয়েছে।
এ ছাড়া হিজড়া খালের ৮টি স্থানে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে বাঁধ, শিট ফাইল ও মাটি। ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ি ও ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য গুলজার খালে ৭টি স্থানে প্রতিবন্ধকতা দায়ী করা হয়েছে। এরমধ্যে ওয়াসার পাইপ লাইন, জরাজীর্ণ সেতু ও খাল-নালায় আবর্জনা রয়েছে। পাথরঘাটা এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য মনোহরখালী খালে স্লুইচ গেটের মুখে মাটি রয়েছে।
সভাশেষে সাংবাদিকদের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বললেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এরমধ্যে আমরা সংগ্রহ করতে পারি ২ হাজার ২০০ টন। বাকি এক হাজার টন খাল-নালায় যাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৫০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা না গেলে প্রকল্পগুলোর সুফল মিলবে না।’
সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন বলেছেন, ‘খাল ও নালার প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।
এ ছাড়া খালগুলো যৌথভাবে আবার পরিদর্শন করা হবে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনের অধীনে ৩৬টি খালের কাজ চলছে। এর বাইরে আরও ৩৫ খাল ও ৬০০ নালার মাটি ও আবর্জনা অপসারণে টেন্ডার করা হয়েছে। এগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’




