সন্দ্বীপ চ্যানেলে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে আটকে গেল ফেরি

আটকা পড়া ফেরিতে বসে আছেন যাত্রীরা। ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে সন্দ্বীপ চ্যানেলে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে আবারও পলিমাটিতে আটকে গেছে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’।
আবহাওয়া সতর্কতার কারণে চার দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর নাব্যতাসংকটের কারণে ফেরিটি আটকে পড়ে।
ফেরির কর্মকর্তারা আনুমানিক ১০০ জন যাত্রীর কথা বললেও ভুক্তভোগীদের দাবি, ফেরিতে দুই শতাধিক যাত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি বাস, সাতটি ট্রাকসহ বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়েছে ফেরিতে।
অভিযোগ উঠেছে, চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের অভাব এবং জোয়ার-ভাটার সময়সূচি না মানায় পলিমাটিতে আটকে যায় ফেরিটি। বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল এই ঘটনার জন্য ফেরির মাস্টারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।
তবে বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান জানিয়েছেন, রাতের জোয়ারে ফেরি না ভাসলে বিকল্প উপায়ে টেনে সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন হালদার বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে ভাটার কারণে ফেরিটি আটকে আছে। যাত্রী ছাড়াও ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন রয়েছে। জোয়ার এলে পানি বাড়বে, তখন সেটি গন্তব্যের দিকে ছুটে যাবে।
অন্ধকার সাগরে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ফেরিতে সুপেয় পানি ও খাবারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ক্যানটিনে চড়া দামে খাবার বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন যাত্রীরা।
আরমান জারিফ নামের এক যাত্রী জানান, ১০ টাকার চানাচুর ২৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। চারদিকে পানি ও কাদা থাকায় যাত্রীদের ঘাটে নেমে যাওয়ারও সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, সন্দ্বীপ চ্যানেল নিয়মিত খনন না করায় জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই স্থানে কপোতাক্ষ ফেরিটি আটকে গিয়েছিল। প্রায় ২৫ ঘণ্টা পর তিনটি টাগবোটের সাহায্যে ফেরিটিকে উদ্ধার করা হয়।






