টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা। ছবি: রনি দে
টানা ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফেনী ও চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে।
আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুলেটিনে বলা হয়েছে, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এ ছাড়া সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা।
বঙ্গোপসাগরের উড়িষ্যা উপকূলের কাছে অবস্থানরত মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে।
আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় জারি করা হয়েছে সতর্কতাও।
নিম্নচাপজনিত বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর উত্তাল থাকতে পারে। এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। চকবাজার, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, মৌলভীপুকুরপাড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা এবং দুই নম্বর গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাতভর বৃষ্টিতে অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
এদিকে, অতিবৃষ্টিতে নগরের পতেঙ্গা এলাকায় সিবিচ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।





