একটি টার্মিনাল বন্ধ, এলএনজি সরবরাহ অর্ধেক

এলএনজি সরবরাহ করা দুই জাহাজ— সংগৃহীত
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে। স্বাভাবিক সময়ে দিনে গড়ে ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দিলেও মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ৫৭০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান দুটি টার্মিনালের মধ্যে একটি চালায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট। দুপুর থেকে সেই টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ আছে। সেই টার্মিনাল দিয়ে ৫৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সবরাহ দেয়া হতো।
পাশে থাকা আরেক টার্মিনাল দেশীয় কোম্পানি সামিট থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামায় দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ সংকটে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্যাসের সংকটে পড়েছে ঢাকা এর আশপাশের এলাকা।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এলএনজি সরবরাহ কমেছে। ত্রুটি সারানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কারিগরি টিম। আশা করছি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
স্বাভাবিক সময়ে কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে দিনে গড়ে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হয়। কাতার, ওমান থেকে সরকারিভাবে এবং আর্ন্তজাতিক স্পট মার্কেট থেকে চড়াদামে এলএনজি কিনে জাহাজে এনে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে রাখা হয়। সেখানে তরল এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। টার্মিনাল থেকে সাগরের তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস প্রথমে মহেশখালীর ল্যান্ডিং স্টেশনে আসে। সেখান থেকে স্থলভাগের পাইপলাইন দিয়ে মহেশখালী থেকে পেকুয়া, চকরিয়া, বাঁশখালী হয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মিত গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইনে পৌঁছায়। আনোয়ারা থেকে এই গ্যাসের একটি লাইনে সরাসরি সিইউএফএল এবং কাফকো সার কারখানায় যায়। অন্য লাইনটি শিকলবাহা হয়ে চট্টগ্রামের প্রধান বিতরণ লাইন এবং জাতীয় গ্রিডের ফেনী-আশুগঞ্জ লাইনে যুক্ত হয়।
দেশের মোট উৎপাদিত ও সরবরাহকৃত গ্যাসের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকেই মেটানো হয়ে থাকে। এলএনজি সরবরাহ কমায় দেশের শিল্প এলাকা, সিএনজি পাম্প, আবাসিকে গ্যাস সরবরাহ সংকটে পড়েছেন গ্রাহকরা।





