লয়েডস লিস্টে সেরা ১০০
৬৮-তেই কেন থমকে চট্টগ্রাম বন্দর

সংগৃহীত ছবি
কনটেইনার ওঠানামায় বিশ্বের ১০০ সেরা সমুদ্রবন্দরের তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিপিংবিষয়ক ঐতিহ্যবাহী সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’। গতকাল শনিবার প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বসেরা বন্দর এবারও চীনের সাংহাই আর দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের অবস্থান ৬৮-তেই।
প্রতি বছর সর্বোচ্চ কনটেইনার ওঠানামার ভিত্তিতে সেরা ১০০ কনটেইনার বন্দরের তালিকা প্রকাশ করে আসছে এই সাময়িকী। এখানে বন্দর সেবার মান, কাস্টমস প্রক্রিয়া, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা জাহাজের অপেক্ষার সময় বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এটি গুণগত বা দক্ষতাভিত্তিক সূচক নয়। একমাত্র মাপকাঠি হলো ভলিউম বা পরিমাণভিত্তিক। ফলে যে বন্দর দিয়ে যত বেশি কনটেইনার ওঠানামা হয়, তালিকায় তার অবস্থান এগিয়ে থাকে। ২০২৫ সালে কত কনটেইনার ওঠানামা হয়েছে, সে তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালে তালিকা প্রকাশ করেছে লয়েডস লিস্ট। তালিকার ১ নম্বরে থাকা চীনের সাংহাই বন্দরে ২০২৫ সালে পণ্য ওঠানামা হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ একক কনটেইনার। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ শতাংশ। ৪ কোটি ৪৬ লাখ একক কনটেইনার করে দ্বিতীয় স্থানে সিঙ্গাপুর বন্দর। একই সময়ে ৩৪ লাখ একক কনটেইনার ওঠানামার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৮তম। ২০২৪ সালে ৩২ লাখ ৭৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানামা করেও ৬৮তম অবস্থানে ছিল দেশের অর্থনীতির এই লাইফলাইন কর্ণফুলী নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম বন্দর।
লয়েডস লিস্টের তালিকায় এক দশকে চট্টগ্রাম বন্দর মূলত ৬০ থেকে ৮০-এর কোঠার ভেতরেই ওঠানামা করেছে। ২০১৪ সালে যেখানে বন্দরটির অবস্থান ছিল ৮৬তম, সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করে ২০১৬ সালে ৭১তম, ২০১৭ সালে ৭০তম, ২০১৮ সালে ৬৪তম, ২০১৯ সালে ৫৮তম এবং ২০২০ সালে সর্বকালের সেরা ৫৮তম অবস্থানে উঠে এসেছিল। এরপর থেকেই মূলত অবনতি হতে থাকে। ২০২৩ সালে ৬৭তম, ২০২৪ সালে ৬৮। এই তালিকার বিষয়ে জানতে গতকাল দিনের শুরুতে যোগাযোগ করা হয় চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সঙ্গে। তিনি জানালেন, লয়েডস লিস্ট হাতে পাননি। তাই মন্তব্য করতে পারছেন না। অবশ্য পরে তিনি আর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।
মূলত এই রিপোর্ট প্রকাশের পর বিব্রত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বদলির আদেশ পেয়েছেন। তিনি ফোনে সাড়া দেননি। বন্দর সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহর ফোনেও সাড়া মেলেনি।
বিদেশি শিপিং লাইনে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়। তারা বলছেন, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর এবং ভারতের মুন্দ্রা বন্দরের উত্থানের মূল শক্তি হলো ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ও বেশি গভীরতার জাহাজ ভেড়ানো। ভারতের বেসরকারি খাতের মুন্দ্রা বন্দর আধুনিক অটোমেশন, নিজস্ব রেল সংযোগ এবং দ্রুত টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের মাধ্যমে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে। এর বিপরীতে চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গো নেই।







