অ্যাপে অভিযোগ দিলে বাস্তবে মিলছে সমাধান

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামে নগরবাসীর জন্য স্বস্তি হয়ে এসেছে একটি অ্যাপ। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামের এ অ্যাপে অভিযোগ করলেই এখন স্বল্প সময়ে মিলছে সমাধান। এখন এই অ্যাপে আরও নানা ধরনের সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন কর্তারা।
অ্যাপটি চালুর প্রথম সাত দিনেই নগরবাসীর জমা দেওয়া বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার মধ্যে ২৫৮টির সমাধান নিশ্চিত করা হয়েছে।
অ্যাপের লাইভ ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর প্রথম সপ্তাহেই মোট ৯৯৯টি আবেদন ও অভিযোগ নিবন্ধিত হয়। এর মধ্যে চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এরই মধ্যে ২৬ শতাংশ বা ২৫৮টি সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। বাকি ৭৪১টি অভিযোগও পর্যায়ক্রমে সমাধানের তালিকায় রাখা হয়েছে।
৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই অ্যাপে অর্থায়ন করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। কারিগরি সহায়তা দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভেনটো টেক।
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মোহাম্মদ সেলিম। তিনি গত ১৯ জুলাই পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ৬৯ নম্বর বাড়ির সামনে পাথর ও বালু রেখে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগটি গৃহীত হওয়ার পর ২২ জুলাই স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান শেষে অভিযান চালিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়।
এতে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন সেলিম। সড়কে আবর্জনা ও সড়ক ভাঙা নিয়ে তার আরও তিনটি অভিযোগের সমাধান এখনো না মিললেও, অ্যাপটি কার্যকর রাখলে ভবিষ্যতে নাগরিক সমস্যার সমাধান মিলবে বলে প্রত্যাশা পাঁচলাইশ এলাকার এই বাসিন্দার।
এই অ্যাপে রাস্তাঘাট, মশার উপদ্রব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, নালা-নর্দমা, পাবলিক টয়লেট, অবৈধ স্থাপনা ও জলাবদ্ধতাসহ মোট ১০টি ক্যাটাগরিতে ছবিসহ সরাসরি সমস্যা জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এতে যুক্ত আছে ৯৯৯ জরুরি সেবা, নারী ও শিশু সেবা, স্কুল হেলথ কার্ড এবং বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রের আবেদন সুবিধা।
চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গত ১৮ জুলাই সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ ওয়ানস্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপের উদ্বোধন করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত বলেছেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম অ্যাপ চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই যেভাবে নাগরিকরা সাড়া দিয়েছেন, তা প্রমাণ করে প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবাই ভবিষ্যতের পথ। আমরা চাই নাগরিকদের প্রতিটি যৌক্তিক অভিযোগ দ্রুততম সময়ে সমাধান হোক এবং তারা ঘরে বসেই যেন সেবার অগ্রগতি দেখতে পারেন।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘এটি একটি অ্যাপ নয়, এটি নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন। স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি নগরবাসীকে অ্যাপটি ব্যবহার করে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা জানাতে এবং একটি বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার অংশীদার হতে আহ্বান জানাই।’
চসিক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন সনদের জন্য অনলাইন আবেদন, জরুরি সেবা ও মেয়রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগসহ আরও বিভিন্ন নাগরিক সেবা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহরের বিভিন্ন সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও সমাধানের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি উন্নয়ন-সংক্রান্ত পরামর্শ, জনমত গ্রহণ, ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা বিশ্লেষণ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট নগরীতে রূপান্তরের যাত্রায় এই অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




