বাসা থেকে ‘গুরুমা’ মৌসুমী হিজড়ার লাশ উদ্ধার, মুখ থেকে বের হচ্ছিল রক্ত

ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়
চট্টগ্রাম নগরীতে নিজ বাসা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া। প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
আজ শনিবার সকালে নগরীর খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
৫২ বছরের মৌসুমী হিজড়া চট্টগ্রামে বসবাসরত হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া কমিউনিটির লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা হত্যার বিচার দাবি করে বিক্ষোভও করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম আগামীর সময়কে জানালেন, মৌসুমী বাসায় একা থাকতেন। আজ সকালে প্রতিবেশীরা ঘুম থেকে উঠে তার বাসার দরজা খোলা দেখতে পান। পরে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এসআই নাসিম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মৌসুমীর গলায় গুরুতর জখমের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৌসুমীর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার আছে। গতকাল শুক্রবার খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়। গরু বিক্রির টাকা তার কাছে ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ওই টাকা ও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে গরু বিক্রির টাকা লুটের জন্যই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রতিবেশী কয়েকজন জানিয়েছেন, গত রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত মৌসুমী তাদের সঙ্গে গল্প করেন। এরপর তিনি ঘুমাতে যান। পাশের কক্ষের বাসিন্দারা তার বাসার সামনে এক জোড়া জুতা দেখতে পান। ভোররাতের দিকে ওই বাসা থেকে বাকবিতণ্ডার শব্দও শুনতে পান তারা। তবে কলোনির কারও সঙ্গে কথা বলছেন মনে করে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।
আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত মৌসুমী ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশীরা তাকে ডাকতে যান। এ সময় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানিয়েছেন, নিহত মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন নেতা ছিলেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।






