সম্প্রীতির বন্ধনে গড়ে উঠুক সুন্দর বাংলাদেশ: ডা. শাহাদাত

বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন
সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করে চট্টগ্রামকে সম্প্রীতির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমি এমন একটি রংধনু শহর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ মিলেমিশে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন।’
আজ শুক্রবার দুপুরে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বললেন, ‘নগরীকে ‘গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা আমার অন্যতম লক্ষ্য। একটি শহর তখনই প্রকৃত অর্থে সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে ওঠে, যখন সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করেন এবং সমান নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করেন।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ নগর গড়ে তুলতে চান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বললেন, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই সম্প্রীতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দ্বিধাহীন চিত্তে বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা দিতেই প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজায় চট্টগ্রামে এসেছিলেন।’
বাগীশিক কেন্দ্রীয় সভাপতি ঝুন্টু চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক ছিলেন পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ। উদ্বোধন করেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা তিনকড়ি চক্রবর্তী। বিশেষ বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অভিষেক উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব অরুণ কান্তি মল্লিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. অঞ্জন কুমার দাশ ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক পলাশ কান্তি নাথ রণী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫৪টি জেলায় বাগীশিকের কার্যক্রম বিস্তৃত। সংগঠনটির প্রায় ৮ হাজার গীতা স্কুলে ৪ লাখ শিক্ষার্থী ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। শিক্ষার পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিদুর্গতদের সহায়তা, অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, বৃক্ষরোপণ, জাতীয় দিবস উদযাপনসহ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. হরিশংকর জলদাস, চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. বিনয় পালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা বক্তব্য দেন। এ সময় নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের শপথবাক্য পাঠ করান বাগীশিকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কর্মবীর দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য্য। অনুষ্ঠানে গীতা ভাণ্ডারের দ্বারোদ্ঘাটন, পাঠ্যক্রমের মোড়ক উন্মোচন এবং স্মরণিকা ‘জ্যোতি’র প্রকাশনা করা হয়।



