প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে খাদ্য

প্লাস্টিক। পলিমার নামক রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে গঠিত একটি কৃত্রিম উপাদান। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি অংশেই মিশে আছে এর ব্যবহার। হাতের ছোট ঠান্ডা পানির বোতল থেকে শুরু করে বসার চেয়ার, সব জায়গাতেই আছে সমান উপস্থিতি। ক্ষুদ্র একটি প্লাস্টিকের অংশ পচে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে সময় নেয় ২০ থেকে ১ হাজার বছর। আশ্চর্যজনক হলেও অবিভাজ্য এই পলিমার ও কৃষি বর্জ্য খাদ্যে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন একদল গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সফল হয়েছেন প্লাস্টিক বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ বিস্কুটে রূপান্তর করতে।
সায়েন্স ডেইলির গত ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিজ্ঞানীরা এমন একধরনের ইস্ট তৈরি করেছেন, যা পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) প্লাস্টিক ও কৃষি বর্জ্যকে ‘মাইক্রো-বাইটস’ নামক প্রোটিনসমৃদ্ধ বিস্কুটে রূপান্তর করতে সক্ষম। বিশেষ এই বিস্কুট সম্ভব থ্রি-ডি প্রিন্ট করা। নাসার ‘ডিপ স্পেস ফুড চ্যালেঞ্জ’-এর অংশ হিসেবে আংশিকভাবে উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিটি উৎপাদন করতে পারে বর্জ্য পদার্থ থেকে প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন এমনকি ভ্যানিলা ফ্লেভারও। গবেষকদের আশা, এই অভিনব প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে প্লাস্টিক দূষণ ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা— উভয় সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে। পাশাপাশি গভীর মহাকাশ অভিযানের মতো চরম প্রতিকূল পরিবেশে খাদ্যের জোগান দিতেও ভূমিকা রাখবে তাদের এই উদ্ভাবন। গবেষকরা ম্যাককর্মিক প্লেসে আয়োজিত আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির সম্মেলনের ‘বায়োকেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল বায়োলজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণা’ বিষয়ক সিম্পোজিয়ামে তাদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। সাউদার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লাহিরু জয়কোডি জানিয়েছেন, ‘আমরা প্লাস্টিক আপসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে আরও মূল্যবান পণ্য তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছিলাম। তখন আমরা ভাবলাম, খাদ্য তৈরির দিকে মনোযোগ দিলে কেমন হয়? কারণ প্লাস্টিকও কার্বন দিয়ে গঠিত, আবার খাদ্যও কার্বনভিত্তিক।’ বিস্কুটটি তৈরির লক্ষ্যে ইস্ট থেকে প্রাপ্ত উপাদানগুলো প্রস্তুত হয়ে গেলে গবেষকরা সেগুলোকে ফাইবার, স্টার্চ এবং সুইটনারের (মিষ্টির উপাদান) সঙ্গে মিশিয়ে নেন। এরপর এই মিশ্রণটিকে একটি থ্রি-ডি প্রিন্টার ব্যবহার করে রূপান্তর করেন মাইক্রো-বাইটস নামের প্রোটিনসমৃদ্ধ বিস্কুটে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই বিস্কুটটির পরীক্ষামূলক মূল্যায়ন করা হয়েছে সুগন্ধের ওপর ভিত্তি করে। তবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, খাদ্যের অভাব রয়েছে— এমন পরিস্থিতিতে তারা ইচ্ছুক থাকবেন মাইক্রো বাইটস খেতে। গবেষণা দলের সদস্য জয়াসেকারা বলেছেন, ‘আমরা অণুজীব ব্যবহার করে বিস্কুটটি আরও আকর্ষণীয় ও ভোক্তাবান্ধব পণ্যে রূপান্তর করছি।’



