স্লথের মল থেকে মিলেছে হাজার বছর আগের তথ্য

প্রতীকী ছবি
স্লথকে দেখলেই মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে অলস প্রাণী বুঝি এটাই। গাছের ডালে ঝুলে থাকা, ধীরে ধীরে চলাফেরা করা আর দিনের বড় একটা সময় ঘুমিয়ে কাটানো- স্লথকে আমরা সাধারণত এভাবেই চিনি। কিন্তু এই প্রাণীটির ইতিহাসে লুকিয়ে আছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। জানলে স্লথকে নতুন করে চিনতে হবে।
স্লথের মল আছে জাদুঘরে
যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের সংগ্রহে রয়েছে স্লথের হাজার বছর পুরোনো মল। বিজ্ঞানের ভাষায় জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া প্রাণীর মল-কে বলা হয় ‘কোপ্রোলাইট’।
প্রায় ১০ হাজার ৪০০ বছর পুরোনো এই নমুনা এসেছে বিলুপ্ত এক ধরনের স্থলচর স্লথের (নথ্রোথেরিয়াম শাসতেনসে) কাছ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার একটি গুহায় এটি পাওয়া যায়।
শুনতে অদ্ভুত হলেও বিজ্ঞানীদের কাছে এই মল বেশ মূল্যবান। এটি পরীক্ষা করে তারা জানতে পারেন, হাজার হাজার বছর আগে এসব প্রাণী কী খেত। শুধু তা-ই নয়, তাদের শরীরে থাকা পরজীবী সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। পরজীবীর বংশগত উপাদান বিশ্লেষণ করে প্রাচীন রোগজীবাণু এবং অতীতে প্রাণীদের ব্যাপক বিলুপ্তির সঙ্গে রোগের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা।
একসময় সমুদ্রেও বাস করত স্লথ
আজকের স্লথকে আমরা গাছের ডালে ঝুলতে দেখি। কিন্তু কয়েক কোটি বছর নয়, কয়েক মিলিয়ন বছর আগে তাদের কিছু আত্মীয় সমুদ্রে বাস করত!
প্রাগৈতিহাসিক এই জলজ স্লথরা প্রায় ৪০ থেকে ৯০ লাখ বছর আগে চিলি ও পেরুর উপকূলে থাকত। তারা সমুদ্রে সাঁতার কাটত এবং পানির নিচে ডুব দিয়ে সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবাল খেত। গবেষকদের ধারণা, এসব এলাকার পাশে ছিল বিস্তীর্ণ মরুভূমি ও খুব কম গাছপালা। তাই খাবারের সন্ধানে স্লথদের সমুদ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল।
পানির নিচে ডুব দিয়ে খাবার সংগ্রহের সুবিধার জন্য তাদের পাঁজরের হাড়ও ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠেছিল। জলজ স্লথ এখন আর নেই। তবে তাদের বর্তমান আত্মীয়দের মধ্যেও সাঁতারের দক্ষতা রয়ে গেছে। স্থলে ধীরগতির এই প্রাণী পানিতে নামলে বেশ ভালোভাবেই সাঁতার কাটতে পারে।
বিলুপ্ত স্লথ আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত আছে থমাস জেফারসনের নাম
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের জীবাশ্মের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। ১৭৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ভার্জিনিয়ার একটি গুহা থেকে পাওয়া বিশাল নখরওয়ালা প্রাণীর কিছু হাড় তাঁর কাছে পাঠানো হয়।
জেফারসন প্রথমে মনে করেছিলেন, এগুলো হয়তো অস্বাভাবিক বড় কোনো বিড়ালজাতীয় প্রাণীর হাড়। তিনি প্রাণীটির নাম দেন ‘মেগালোনিক্স’। পরে একটি পত্রিকায় একই ধরনের জীবাশ্মের ছবি দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর ধারণা ভুল। হাড়গুলো আসলে ছিল বিলুপ্ত এক ধরনের স্থলচর স্লথের।
১৮০৪ সালে জেফারসনকে মেগালোনিক্স গণের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে প্রাণীটির নাম রাখা হয় মেগালোনিক্স জেফারসনি। প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই বিশাল স্লথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি জীবাশ্ম।




