৭ দিনেও শুকায়নি হিমালয়ের ক্ষত

সংগৃহীত ছবি
‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে...’, বুকফাটা সেই দীর্ঘশ্বাসের মতোই নেপালে পাহাড়ের বুক থেকে নেমে এসেছে এক দীর্ঘ বেদনার গল্প। হাহাকার, আর্তনাদ, কান্না! ভোতে কোশির ভয়াল স্রোত থেমেছে, কিন্তু থামেনি স্বজন হারানো মানুষের অপেক্ষা। বিপর্যয়ের সপ্তম দিনেও (মঙ্গলবার) তিব্বত-নেপাল সীমান্ত জুড়ে চলছে উদ্ধারযুদ্ধ। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা বন্যায় ভেঙে পড়া রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা এখনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিংয়ের বহু এলাকা এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ হাজার ৮৮৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৩ হাজার ৯১৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। আহত হয়েছেন ২৭৯ জন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নেপাল-চীন সীমান্তের তিব্বত অঞ্চলে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে চীনা কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিব্বতের দুর্গত এলাকায় চীনা উদ্ধারকারী দল ড্রোন, ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী কুকুর ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছে। নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। এদিকে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে এখনো চলছে মরিয়া চেষ্টা। বিবিসি নেপালির এক প্রতিবেদনে গতকাল জানানো হয়েছে, রসুয়াগড়ি, ত্রিশূলী-৩ সহ বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







