তেহরানে ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ, পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে ফ্রান্স

সংগৃহীত ছবি
ইরানে রাজধানী তেহরানে নিজেদের দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট একটি ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে, নেওয়া হবে যথাযথ ব্যবস্থা।
এর আগে ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার এক বিচারিক আদেশে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয় তেহরান। দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানায়, ভাষা শিক্ষার আড়ালে দেশটির অবৈধ কার্যকলাপ এবং স্বীকৃত কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী আচরণের কারণে কেন্দ্রটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া নেওয়া হয়েছে।
রবিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাস্কাল কনফাভ্রেক্স এক বিবৃতি বলেছেন, গত জুলাইয়ে ফরাসি দূতাবাসের দুই কর্মীর ওপর হামলার পর ইরানে ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক উপস্থিতির ওপর নতুন এই হামলা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের বেশ কয়েকজন ফরাসি নাগরিককে আটক জেরে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। যদিও পরে তেহরান আটকদের ছেড়ে দিলে সম্পর্কে কিছুটা উন্নতি হয়। তবে নতুন তেহরানে করে ফ্রান্সের দুজন কূটনীতিককে গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে বহিষ্কারের পর পরিস্থিতি আবার খারাপ হয়।
তেহরানের ভাষ্য, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে নির্দেশনা অমান্য করে বছরের পর বছর ধরে ‘ভাষা শিক্ষার আড়ালে’ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
কেন্দ্রটির কার্যক্রম ইরানি সংস্কৃতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিচারিক আদেশে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে প্যারিস।
তাদের ভাষ্য, চলতি বছর ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তারা দেশটির সুশীল সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টার পর থেকেই চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে তেহরান।
কূটনীতিকরা বলছেন, মাহসা আমিনির মৃত্যুর চতুর্থ বার্ষিকীতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানও ক্ষুব্ধ হয়েছে।
তার এই পোস্টকে ‘কুমিরের কান্না’ বলে আখ্যা দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন আমাদের স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছিল, তখন তোমার নীরবতাই সবকিছু বলে দেয়’, যোগ করেন তিনি।
সেইসঙ্গে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৫ লক্ষ আলজেরীয়কে হত্যার দায়ে প্যারিসকে অভিযুক্ত করেন আরাঘচি।
জাতিসংঘে বিশ্ব নেতাদের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে মঙ্গলবার দুই মন্ত্রীর সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স



