আজকালের মধ্যেই ইরানে সর্বকালের বড় হামলা চালাবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র
- সব স্থাপনাকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরনের
- নতুন হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরায়েল

ইরানে সর্বকালের বড় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল/ফাইল ছবি
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে, এমন মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে গেছে ইসরায়েল। দেশটির কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলা চালালেও ইরান এর জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজ নিজ নাগরিকদের প্রয়োজনে দ্রুত অঞ্চল ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের দূতাবাস।
ইসরায়েলি শীর্ষ দুই কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তথ্য জানিয়েছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট। প্রতিবেদন বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে, এমনকি আগের চেয়েও বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি এবং প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’
তবে আরেক উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিবিএস জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ইসরায়েল অবগত নয়। এখন পর্যন্ত তেল আবিবকে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়নি।
তবে এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বার্তাসংস্থা চ্যানেল ১২ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটি সরাসরি অংশ না নিলেও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইসরায়েল, এমনটায় ধারণা আইডিএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। সে কারণেই সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কোনো নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়নি এবং বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সতর্কতা জারি
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের প্রয়োজনে দেশটি ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে অথবা পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত চলে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে পরামর্শ দিয়েছে। এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অঞ্চলটি ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত অথবা দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে জর্ডান, মিসর, কাতার, সৌদি আরব, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত, লেবানন, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও।
যুদ্ধজাহাজ চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তরকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত একটি যুদ্ধজাহাজ না পেলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তার মতে, প্রয়োজনীয় নৌবাহিনীর সহায়তা না পেলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে।
সব স্থাপনাকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি ইরনের
ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে, এমন ধারণাকে উড়িয়ে দেন দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা, ট্রাম্পের কানে এসব আজেবাজে কথা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। ইরানের ওপর হামলা হলে, পাল্টা হামলা হবে পুরো অঞ্চলে। সব স্থাপনাকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি হামলা চালায়, তাহলে আমাদের জবাব শুধু পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হামলার উৎস যেখানে থাকবে, সেখানেই আমরা প্রতিশোধ নেব।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি ‘সব ধরনের সক্ষমতা’ ব্যবহার করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে পৃথক টেলিফোনে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ‘যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ইরান নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যেকোনো হামলার জবাব দৃঢ়ভাবে দেবে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নাম আলোচনায় রয়েছে। ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, পাল্টা হামলা হলে ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন তেল ও গ্যাস স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। একইভাবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীও নতুন কোনো নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেনি।






