ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
আন্দোলন চলমান থাকবে, দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক

ইউরোপ জুড়ে বিভিন্ন দেশে চলছে আন্দোলন-বিক্ষোভ। ফ্রান্স ও স্পেনের পর এবার উত্তাল বেলজিয়াম। দেশটির রাজধানী ব্রাসেলসে সরকারের বাজেট ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘটে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। -রয়টার্স
সরকারের কাছ থেকে শিক্ষক সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা। দেশ জুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১৪১টি স্কুল বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচনের কারণে দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা সংকটে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। প্যারিসের ‘এলিট বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও এতে যুক্ত হচ্ছেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংগঠনগুলো আগামী মঙ্গলবার আবারও দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শিক্ষক সংকটের সমাধান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে ফরাসি সরকার প্রায় তিন হাজার প্রশিক্ষিত শিক্ষককে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়ার জরুরি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই শিক্ষকরা যোগ্য হলেও এখনো কর্মজীবন শুরু করেননি। শিক্ষার্থীদের সংগঠনের প্রতিনিধি মারিয়ুস মেসনিল বলেছেন, সরকারের এ পদক্ষেপ প্রমাণ করে, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সার্থক।
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, শিক্ষক সংকটে থাকা স্কুলগুলোয়, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, শিক্ষক পাঠাতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিক্ষোভ চলাকালে এ পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশটির অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকালে প্যারিসের আসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অবরোধ সরিয়ে দেয় পুলিশ। প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিন প্যারিসেও অবরোধে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একটি রক্ষণশীল ক্যাথলিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবরোধের কারণে অনলাইন ক্লাস চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর দাবি এবং সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণের চাপের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকার কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। দেশটির সরকারি উচ্চবিদ্যালয়গুলোয় প্রায় ১০ শতাংশ পাঠদান ঘণ্টায় শিক্ষক থাকেন না। ফলে অনেক সচ্ছল পরিবার সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে পাঠাচ্ছে, যা সামাজিক বৈষম্য বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে অর্ধলাখের বেশি শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। এদিকে একই সময়ে বেলজিয়ামেও শিক্ষার্থীরা শ্রমিকদের সঙ্গে ধর্মঘটে যোগ দেন। ব্রাসেলসে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও কোথাও কাঁদানে গ্যাস শেল ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।



